চাকরি দেয়া সরকারের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব। ব্যবসার পরিবেশ অনুকূল না থাকা এবং বেকারত্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবনতিশীল অর্থনীতি ও বাড়তে থাকা জনসংখ্যা পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
সোমবার জনসংখ্যা-বিষয়ক এক সেমিনারে পাকিস্তানের এই অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চাকরি দেয়া সরকারের দায়িত্ব নয়— এই মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। আজকের ফ্রিল্যান্সাররাই আমাদের আইটি সেক্টর ও আইটি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
তার বক্তব্যের পরপরই, করাচি আইবিএর নির্বাহী পরিচালক ড. এস আকবর জাইদি বলেন, ‘পাকিস্তান অবনমনের দিকে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি খুব দ্রুত অবনতির পথে। যেকোনো অর্থনীতিবিদের সঙ্গে কথা বলুন, এমনকি এখানে উপস্থিত অনেকেই একমত হবেন যে সব সূচকই ভুল দিকেই যাচ্ছে।’
মানব উন্নয়ন সূচকে (এইচডিআই) ১৬৮ নম্বরে থাকা পাকিস্তান সম্পর্কে জাইদি আরও বলেন, ‘এমন অবস্থায় নতুন অর্থনীতি, আইটি বা কম্পিউটার খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা যায় না।
এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান জামিল আহমদ বলেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধি মডেল ২৫ কোটির জনসংখ্যার বোঝা বহন করতে পারছে না। বিশেষ বিনিয়োগ সহায়তা কাউন্সিলের (এসআইএফসি) জাতীয় সমন্বয়কও স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের কোনো প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনাই নেই।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা কর কর্তৃপক্ষের সহজ টার্গেট হয়ে উঠেছেন, আর স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা দেশের বাইরে অন্যত্র বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে দেশে পর্যাপ্ত চাকরি নেই এবং বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.১ শতাংশে, যা ২০০৪ সালের পর সর্বোচ্চ।
জাইদি বলেন, ৭.১ শতাংশ বেকারত্বও ‘কম দেখানো’ হয়েছে। প্রতিবছর ৩৫ লাখ মানুষ নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করায় জনমিতিক সুবিধা এখন ‘দুঃস্বপ্নে’ পরিণত হয়েছে।
জাইদি আরও বলেন, পাকিস্তান এখনো সেই পর্যায়ের কাছাকাছি যায়নি, যেখানে ৫০ বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ছিল। জাইদি বলেন, ‘স্বীকার করতেই হবে, পাকিস্তানের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় নেই, তুলনামূলক বা সরাসরি যেকোনো পরিমাপেই আগের কয়েক বছরের চেয়ে অনেক খারাপ অবস্থায় আছে অর্থনীতি।
তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ২৫ বছরের মধ্যে পাকিস্তান হবে বিশ্বের তৃতীয় জনবহুল দেশ। তিনি জানান, গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে বেকারত্ব বাড়ছে। গত তিন বছরে পাকিস্তানের শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি ২০ শতাংশ কমেছে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আওরঙ্গজেব বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন— এই দুই অস্তিত্বগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে। তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির রূপরেখা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের পুরো সম্ভাবনা অর্জন করতে হলে এই দুই অস্তিত্বগত ইস্যুকে বুঝতে এবং মোকাবিলা করতে হবে।
Leave a Reply