শিক্ষা ব্যবস্থা, সুশাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে একটি অভিযোজন-সক্ষম ও উদ্ভাবন-প্রস্তুত কর্মীবাহিনী বজায় রাখার জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপের ওপর ভর করে সিঙ্গাপুর প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের গ্লোবাল ট্যালেন্ট কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্স (GTCI)-এ শীর্ষস্থান দখল করেছে।
বিজনেস স্কুল ইনসেড (INSEAD) এবং ডি.সি.-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক পোর্টুল্যান্স ইনস্টিটিউট (Portulans Institute)-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই সূচকের একাদশতম সংস্করণে দেশগুলো কীভাবে সব আয়ের গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিভা বিকাশ, আকর্ষণ ও ধরে রাখে তা পরিমাপ করা হয়েছে। খবর- সিএনবিসি
এ বছরের প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিপর্যয়ের যুগে স্থিতিস্থাপকতা’ (resilience in the age of disruption)। এতে ছয়টি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সফট স্কিলস এবং এআই প্রতিভার ঘনত্বসহ ৭৭টি সূচকের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ১৩৫টি দেশের র্যাঙ্কিং করা হয়েছে।
পোর্টুল্যান্স ইনস্টিটিউটের সিইও রাফায়েল এসকালোনা রেইনোসো বলেন,‘দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং গভীর সামাজিক পরিবর্তনের এই সময়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিভা পরিমাপক আগের চেয়েও বেশি জরুরি।’
ইনসেডের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ডিন লিলি ফ্যাং মন্তব্য করেন,‘ঐতিহাসিকরা আমাদের আরও ভালো দৃষ্টিকোণ দিতে পারলেও, আমাদের সত্যিই মনে হচ্ছে আমরা সর্বোচ্চ বিপর্যয় ও উদ্বেগের একটি সময়ের মধ্যে বসবাস করছি। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাণিজ্য ও বাজারের স্থিতিস্থাপকতার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলার জন্য দুর্দান্ত সুযোগের পাশাপাশি অকল্পনীয় ঝুঁকিও নিয়ে আসছে।’
২০২৫ সালের বৈশ্বিক মেধা প্রতিযোগিতা সূচকে (GTCI) শীর্ষ ১০টি দেশ হলো:
১.সিঙ্গাপুর
২.সুইজারল্যান্ড
৩.ডেনমার্ক
৪.ফিনল্যান্ড
৫.সুইডেন
৬.নেদারল্যান্ডস
৭.নরওয়ে
৮.লুক্সেমবার্গ
৯.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
১০.অস্ট্রেলিয়া
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের কাছে শীর্ষস্থান হারিয়ে সুইজারল্যান্ড GTCI-এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ধাপ নিচে নেমে এসেছে। তবে, দেশটি ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ইন স্কুল (১ম), সরকারি কার্যকারিতা (২য়), এবং এআই স্কিলস মাইগ্রেশন (৪র্থ) সহ একাধিক ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রয়েছে। শীর্ষ দশটি অবস্থানের মধ্যে সাতটিই উচ্চ-আয়ের ইউরোপীয় দেশগুলোর দখলে রয়েছে।
এছাড়া, ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে তৃতীয় স্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বছর নবম স্থানে নেমে এসেছে, যা ২০১৩ সালের পর তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিভা সক্ষম করা এবং বিকাশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী স্কোর করলেও,‘উন্মুক্ততা’ এবং ‘আজীবন শিক্ষা’-এর ক্যাটাগরিতে সামান্য অবনতির কারণে দেশটি নবম স্থানে নেমে গেছে।
ইনসেডের ইমেরিটাস প্রফেসর এবং প্রতিবেদনের সহ-সম্পাদক পল ইভান্স বলেন,‘যেসব অর্থনীতি অভিযোজন-সক্ষম, ক্রস-ফাংশনাল এবং এআই- তে দক্ষ কর্মীবাহিনী তৈরি করে, তারা বিপর্যয়কে সুযোগে রূপান্তরিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে আরও ভালোভাবে সক্ষম হয়।
Leave a Reply