স্বাধীনতার পর থেকেই গুলশান বনানীর পাশের লেক ঘিরে বসবাস শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দরিদ্র জনগোষ্ঠী। যা ৯০ দশকে পরিণত হয় বস্তিতে। সরকারী জমিতে গড়ে ওঠা এ কড়াইল বস্তিই যেন ঢাকার বুকেই আলাদা এক পৃথিবী।
গেল এক দশকে এ বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেনো প্রতিবছরের রুটিন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ভয়াবহ আগুনে প্রায় ৫০০ ঘর পুড়ে গিয়েছিল। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২০১৭ সালের মার্চে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসেও বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটে। সবশেষ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) লাগা আগুনে পুড়েছে শতশত ঘর। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতে সাধারণত শর্ট সার্কিট, মশার কয়েল বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে আগুন লাগার কারণ হিসেবে দেখানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলেন, আগুনের উৎস নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলছেন। তবে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো।
তবে বাস্তবতা কি আসলেই এমন? ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান বলছেন আগুন লাগার কারণ হতে পারে সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার অভাব। সঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা।
আলী আহমেদ খান বলেন, হয়তো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বস্তিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য অনেক সময় আগুন লাগায়। আগুন লাগার পর পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন এনজিও গ্রুপ তাদের সহযোগিতা করেছে কিন্তু সেটাও টেকসই না। আমার মনে হয় আগুন নেভানোর জন্য বস্তিবাসীর একটা টিম থাকা উচিত হবে। তবেই বস্তির আগুন দ্রুত নেভানো যাবে।
আগুন লাগার পর যেসব প্রতিবেদন দেয়া হয় সেখানেও অনেক গাফিলতি ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে বলেও ধারণা এই বিশেষজ্ঞের। প্রতিটি বস্তি ও শিল্প এলাকায় আলাদা ফায়ার ইউনিট থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। বিদেশে সব জায়গায় রাস্তার পাশে হাইড্রেন্ট আছে, সেখান থেকে পানি নিয়ে তাৎক্ষনিক আগুন নেভানো যায়। কিন্তু সেটি আমাদের দেশে নেই।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে সারা দেশে গেল ২ দশকে তিন লাখের বেশি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ২০২৪ সালেই ২৬ হাজারের বেশি ছোট বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে যা প্রতিদিনের হিসেবে ৭৩ টি করে।
Leave a Reply