বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে পেটাল দুর্বৃত্তরা মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর কুমিল্লায় হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন গোলাম পরওয়ার : রাশেদ খান প্রকাশ্যে ভারতে বিরোধীতা করলেও তলে তলে আঁতাত করছে জামায়াত: আবু হানিফ বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চালাল ডিএসসিসি নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় ৩ জনের মৃত্যু

গাজা যুদ্ধে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখের বেশি: রিপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার

গাজা যুদ্ধের দুই বছরে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ধারণার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘জাইট’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির খ্যাতনামা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বা মারা গেছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রস্টকে অবস্থিত এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানায়, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫ জন পর্যন্ত মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তাদের মধ্যম-প্রাক্কলন দাঁড়ায় ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯ জনে।
গবেষণা প্রকল্পের সহ–নেতা ইরেনা চেন বলেন, ‘আমরা কখনোই প্রকৃত সংখ্যাটা জানব না। আমরা শুধু সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পরিসরটি নির্ণয় করার চেষ্টা করছি।’
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের গবেষকেরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যানগত প্রক্ষেপণ করেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি তারা স্বতন্ত্র গৃহস্থালি জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক মৃত্যু সংক্রান্ত রিপোর্টও ব্যবহার করেছেন।
এ পর্যন্ত মৃত্যুর সরকারি হিসাব কেবল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই দিয়েছে—যেখানে যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয় ৬৭ হাজার ১৭৩। তবে ‘জাইট’ বলছে, এ সংখ্যায় কারচুপির প্রমাণ নেই। বরং বিভিন্ন স্বতন্ত্র গবেষণা দেখিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের তথ্য সাধারণত সংযত থাকে এবং প্রকৃত মৃত্যু আরও বেশি। অনেক গবেষণাতেই ধারাবাহিকভাবে উচ্চ সংখ্যক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা রিপোর্টের চেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের মৃত্যু সনদনির্ভর নিশ্চিত মৃত্যুকেই গণনা করে। যুদ্ধের কারণে বহু হাসপাতাল স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারায়, এখন তারা স্বজনদের দেওয়া মৃত্যুসংক্রান্ত নোটিফিকেশনও যাচাই করে যুক্ত করছে। ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যাওয়া অনেক মানুষকেই এ কারণে তালিকাভুক্ত করা যায় না।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক দলটি এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক বিস্তারিত মৃত্যুহারও হিসাব করেছে। তাদের প্রাক্কলনে দেখা যায়, নিহতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী। বয়স ও লিঙ্গভেদে সরকারি পরিসংখ্যানের ঘাটতি থাকায় এই বিচ্ছিন্ন বিশ্লেষণকে আরও নির্ভরযোগ্য বলা হচ্ছে।
গবেষকেরা গাজার জীবন প্রত্যাশায় যুদ্ধের প্রভাবও হিসাব করেছেন। যুদ্ধের আগে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর এবং পুরুষদের ৭৪। তাদের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে এই গড় আয়ু নেমে আসতে পারে নারীদের ক্ষেত্রে ৪৬ বছর ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৬ বছরে। এটি একটি পরিসংখ্যানগত পূর্বাভাস—ধরা হচ্ছে, যুদ্ধ একইভাবে চলতে থাকলে জনগণের গড় আয়ু বাস্তবে এই পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।
গবেষণা বলছে, এই সংখ্যা ও পূর্বাভাস গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories