যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে ইউক্রেনকে সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জন্য এই শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দেয়ার শেষ সময় এখনও আগামী বৃহস্পতিবারই (২৭ নভেম্বর) ধরে রেখেছেন তিনি।
তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ফক্স নিউজ রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তাকে ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা এবং কিয়েভের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন,‘আমার জীবনে অনেক সময়সীমাই ছিল। কাজ এগোতে থাকলে সময় বাড়ানোই হয়। তবে আমরা মনে করি বৃহস্পতিবারটাই উপযুক্ত।’ খবর- টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ট্রাম্প বলেন, এই ২৮ দফার লক্ষ্য যুদ্ধ থামানো। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই— এই রক্তপাত বন্ধ হোক। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে হবে ইউক্রেনকে— যুক্তরাষ্ট্রের প্রণীত পরিকল্পনার এই দিকটি স্বীকার করে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন যাই হোক না কেন এই এলাকা হারাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ভূখণ্ড হারাচ্ছে।
রাশিয়ার দাবিগুলো মেনে নিলে মস্কো ভবিষ্যতে বাল্টিক বা ইউরোপের আরও অঞ্চলে হামলা চালাতে পারে বলে যে শঙ্কা রয়েছে, সেই প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ‘থেমে যাবে’, এবং ‘তারা আর বেশি যুদ্ধ চায় না… বরং তারা ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই খসড়া পরিকল্পনায় রয়েছে— ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার আশা ছেড়ে দেবে, ক্রিমিয়া-দোনেৎস্ক-লুহানস্ক রাশিয়ার অধীনে চলে যাবে এবং কিয়েভ সেটা মেনে নেবে এবং ডনবাসে নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠনের জন্য ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী পিছু হটবে। বিনিময়ে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাবে ইউক্রেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই মার্কিন এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ‘ভিত্তি’ হতে পারে। এছাড়া মস্কো এই পরিকল্পনার একটি কপি পেয়েছে বলেও প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির ভিত্তি হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে’। অবশ্য মার্কিন এই ২৮ দফা পরিকল্পনায় রাশিয়ার অনেক দাবি অন্তর্ভুক্ত থাকায় কিয়েভ ও ইউরোপে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে কিয়েভ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলে আরও ভূখণ্ড দখলের হুমকিও দিয়েছেন পুতিন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের কুপিয়ানস্ক শহর দখলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ফ্রন্টলাইনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও ঘটবে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তাদের মূল অবস্থানগুলো যেন আলোচনায় প্রতিফলিত হয় তা নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে কিয়েভ। তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চান তিনি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েনও জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা দিতেই হবে। শনিবার ইউরোপীয় নেতারা মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন।
এছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে ইউক্রেনকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
Leave a Reply