বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা সরকার বসে নেই, দ্রুত সব সংকটের সমাধান হবে: রিজভী নবম জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর : নাসিমুল গনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ফুলেল শুভেচ্ছা শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী আগামী রমজানের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ মমতা ব্যনার্জির ভাইঝির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সামরিক কাঠামোতে বিতর্কিত ক্ষমতায়ন: পাকিস্তান কি স্থিতিশীলতার পথে নাকি ফাটল আরও গভীর হবে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দেশের ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীতে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী সামরিক ও বিচার বিভাগীয় পুনর্গঠনকে আইনি রূপ দিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে বিরোধীপক্ষের বিক্ষোভ এবং নানা নাগরিক সমাজভিত্তিক সংগঠন ও দায়িত্বরত বিচারকদেরসমালোচনার মধ্যেও আইনসভার দুই কক্ষে পাস হওয়া এই সংশোধনী পাকিস্তানের উচ্চ আদালত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
পাকিস্তানের ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী দেশটির সামরিক কাঠামো এবং বেসামরিক-সামরিক ক্ষমতার সম্পর্ককে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে। নতুন এই সংশোধনীর ফলে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা শুধু পদ-সংক্রান্ত নয়; বরং পাকিস্তানের সামরিক ভারসাম্য, তিন বাহিনীর ক্ষমতার বণ্টন, এমনকি রাজনৈতিক শ্রেণির ভবিষ্যত অবস্থানের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে-এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এই সংশোধনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন, যা বেসামরিক সরকার ও সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক নির্ধারণ করে। সংশোধনের মাধ্যমে নতুন একটি পদ-‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) সৃষ্টি করা হয়েছে, যা একই সঙ্গে সেনাপ্রধান অর্থাৎ সিওএএস-এর মাধ্যমে ধারণ করা হবে। ফলে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (পিএএফ) ও নৌবাহিনী (পিএন) কার্যত সেনাপ্রধানের অধীনস্থ হয়ে পড়বে। বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই পদে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অধিষ্ঠিত হবেন এবং তার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়বে।
এছাড়া, যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ (সিজেসিএসসি) পদটি চলতি মাসের শেষে বাতিল করা হবে। সমালোচকদের মতে, সিজেসিএসসি যদিও প্রতীকী ছিল, তবে তিন বাহিনীর মধ্যে একটি ভারসাম্য ও পরামর্শমূলক প্ল্যাটফর্ম বজায় রাখত। এটি বিলুপ্ত হলে নৌ ও বিমানবাহিনীর কৌশলগত স্বাধীনতা আরও কমে যাবে।
সংশোধনীটি পাঁচ–তারকা (ফাইভ স্টার) পদটিকে কেবল সম্মানসূচক নয় বরং সাংবিধানিক ক্ষমতাসম্পন্ন পদে পরিণত করেছে। এসব পাঁচ–তারকা কর্মকর্তা আজীবন ‘অপরাধমূলক মামলা থেকে মুক্ত’ থাকবেন এবং তাদের র‌্যাঙ্ক ও সুবিধা আজীবন বহাল থাকবে।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এটি ‘আইনের শাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক
সমালোচকরা বলছেন, বিতর্কিত কাঠামোটি মূলত সামরিক বাহিনীর ভেতর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণকে বৈধতা দিচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে সেনাবাহিনী। নৌ ও বিমানবাহিনী শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কম প্রভাবশালী হয়ে পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষোভ বা ক্ষমতার অসমতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে সংশোধনীর সমর্থকরা এটিকে ‘২১শ শতকের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলানোর স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমন্বয়’ বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, গত মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘর্ষ দেখিয়েছে যে পাকিস্তানের বিদ্যমান কমান্ড কাঠামো পুরোনো হয়ে গেছে এবং ‘দ্রুত, সমন্বিত প্রতিক্রিয়া’ নিশ্চিত করতে নতুন কাঠামো দরকার ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আবার অন্য ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ইমরান খান ও পিটিআই–র জনপ্রিয়তা এবং ২০২৪ নির্বাচনের বিতর্কিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার সেনা নেতৃত্বের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে এই সংশোধনী রাজনৈতিক শ্রেণির ‘ক্ষমতার বিনিময়ে সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন’ হিসেবে দেখা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের এই সামরিক পুনর্গঠন দেশটির দীর্ঘদিনের বেসামরিক–সামরিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করে তুলবে নাকি শক্তিশালী ও কার্যকর সমন্বিত কমান্ড গড়ে তুলবে-সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে এখনই স্পষ্ট, এই পরিবর্তনের প্রভাব পাকিস্তানের সামরিক ভারসাম্যের পাশাপাশি তিন বাহিনীর পারস্পরিক মর্যাদাভিত্তিক সম্পর্কের ওপর গভীর ছাপ ফেলবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories