ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপক মাত্রায় সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকা পুয়ের্তো রিকোর সাবেক রুজভেল্ট রোডস নৌঘাঁটি দ্রুত আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ২০০৪ সালে ঘাঁটিটি বন্ধ করার আগে এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন নৌঘাঁটি।
উপগ্রহচিত্র ও স্থলচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়-ঘাঁটির ট্যাক্সিওয়ে ও রানওয়ে নতুনভাবে সংস্কার করা হচ্ছে যাতে যুদ্ধবিমান ও বিশাল কার্গো প্লেন ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে পোর্টেবল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সাপোর্ট ও নিরাপত্তা অবকাঠামো। রানওয়ের পাশে স্থাপন করা হয়েছে নতুন তাঁবুর সারি।
এছাড়া পুয়ের্তো রিকোর রাফায়েল হার্নান্দেজ বিমানবন্দর এবং মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট ক্রয় দ্বীপের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। নতুন রাডার, মোবাইল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করছে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক প্রস্তুতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন দাবি করছে-এলাকার ড্রাগ কার্টেল ঠেকাতেই এই উদ্যোগ। গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী জাহাজে অন্তত ১৪টি হামলায় ৬১ জন নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বিমানবাহী রণতরী ‘ফোর্ড’ স্ট্রাইক গ্রুপসহ যুদ্ধজাহাজ, পারমাণবিক সাবমেরিন, ফাইটার জেট ও নজরদারি ড্রোন ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। এগুলো মিলিয়ে এটি ১৯৯৪ সালের হাইতি অভিযানের পর সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি।
রয়টার্সের প্রশ্নে পেন্টাগন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বাড়ছে এবং ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
Leave a Reply