যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনকে অবিলম্বে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা আবারো শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষায়-যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সমপর্যায়ে’ আনতেই এই সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, যেহেতু অন্য দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিজের সক্ষমতা যাচাই বন্ধ রাখতে পারে না।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন-‘আমাদের কাছে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু চীন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই সেই সমতা পেয়ে যাওয়ার পথে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছি সমতার ভিত্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে। প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে।’ তবে ট্রাম্প ঠিক কোন ধরনের পরীক্ষা বোঝাচ্ছেন—-ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পরীক্ষা নাকি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ পরীক্ষা-তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, এশিয়া সফরের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে সফল বাণিজ্য আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, তিনি সিউলকে নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন। দেশটির বুসানের গিমহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে এই ঘোষণা দেন তিনি।
বৈশ্বিক পারমাণবিক ভারসাম্যে কোন দেশ কোথায়? যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে মোট ৫ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক অস্ত্র। এর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে তিন হাজার ৮০০-এর মতো।
রাশিয়ার রয়েছে ৫ হাজার ৪৫৯টি যার মধ্যে সক্রিয় এক হাজার ৬০০টি। চীনের রয়েছে প্রায় ৬০০টি আর সম্প্রতি বছরগুলোতে প্রায় ১০০ করে বাড়ছে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা। তবে ২০৩০ নাগাদ এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্নায়ূযুদ্ধের পর ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা করে ১৯৯২ সালে।
এরপর ১৯৯৬ সালে চালু হয় কম্প্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি (সিটিবিটি)। এ পর্যন্ত মাত্র তিন দেশ এ নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।১৯৯৮ সালে ভারত, একই বছর পাকিস্তান দু’বার এবং উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত পাঁচবার পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
Leave a Reply