শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী দেশ মেরামতে সরকার থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে : প্রধানমন্ত্রী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক-শেহবাজের প্রথম বৈঠক, সম্পর্ক নিয়ে যে বার্তা দিল পাকিস্তান জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় ৪ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান বিশ্বশান্তি ও মানবতার পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন বিরোধী দল পালামেন্টে সুন্দর সুন্দর কথা বলেন বাইরে ৭১ রুপ ধারণ করে : শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সৌদি আরবের নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকে বসছে মক্কা জোট

নরসিংদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বিনামূল্যের ডেলিভারি চার্জ ৫ হাজার টাকা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫
  • ৮৯ বার

নরসিংদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার কথা থাকলেও টাকা ছাড়া প্রসবকালীন কোনো সেবা মেলে না। এমনকি, ডেলিভারি রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালের স্টাফদের নির্ধারিত কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা দেয়া না হলে করা হয় অশোভন আচরণ। এতে নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা প্রসূতিসহ তাদের স্বজনরা।
সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে সাধারণ প্রসূতি রোগীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে টাকা আয়ের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যার নেতেৃত্বে রয়েছেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা লিছা বেগম। গত বুধবার তিনি এক প্রসূতি মায়ের ডেলিভারি করিয়ে টাকা আদায় করেন। পরে সাংবাদিকরা তাকে ফোন করলে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর সোয়া একটায় বিকাশের মাধ্যেমে সে টাকা ফেরত দেন। এ চক্রে অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে শুরু করে পিয়ন, নার্স ও আয়া জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদীর হতদরিদ্র মো. মোবারকের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের বুধবার দুপুর ২টায় প্রসব বেদনা উঠে। পরে শাহিনুরের কৃষক বাবা মো. তাজু মিয়া তাকে নিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটায় নরসিংদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন। হাসপাতালে আসার ২০ মিনিটের মধ্যে তার নরমাল ডেলিভারি হয়। ডেলিভারি করান পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা লিছা বেগম। তাকে সহায়তা করেন আয়া ফরিদা।
প্রসূতী মা শাহিনুর আক্তার জানান, নরমাল ডেলিভারি পর পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা লিছা বেগম তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। তার কৃষক বাবা এতো টাকা দিতে পারবেন না জানালেও তাদের নানা অযুহাতে হাসপাতালে আটকে রাখেন। পরে বাধ্য হয়ে চার হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
তিনি আরও জানান, লিছা বেগম বৃহস্পতিবার দুপুরে ফোন করে টাকা নেয়ার বিষয়ে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে করবেন না বলে জানান এবং বিকাশের মাধ্যমে চার হাজার টাকা ফেরত দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, শুধু শাহিনুর আক্তারই নন, পরিদর্শিকা লিছা বেগম যার ডেলিভারিই করান, তার কাছ থেকে টাকা নেন। লিছা ডেলিভারি প্রতি ৫-৭ হাজার টাকা দাবি করেন। সর্বনিম্ন পাঁচ হাজারের কমে কোনো রোগীকে ছাড়েন না। তিনি বলেন, এই হাসপাতাল থেকে যারা ডেলিভারি করিয়েছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই এর সতত্য পাওয়া যাবে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, লিছা বেগম চাকরিতে যোগদানের পর থেকে নারীদের মাসিক নিয়মিতকরণ (এমআর) পরীক্ষা করিয়ে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। ১৪ গ্রেডে চাকরি করা এই নারী মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে নরসিংদী জেলা শহরে চিনিশপুরে ১০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছেন।
এদিকে, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা লিছা বেগম বুধবার টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন সাংবাদিকদের কাছে। বৃহস্পতিবার টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে পুনরায় ফোন তিনি বলেন, এটি ভুল বুঝাবুঝি, আমার ভুল হয়েছে। বিষয়টি সমাধান হয়েছে। তিনি প্রতিবেদককে বিষয়টি ম্যানেজ করার অনুরোধ করেন।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এডিসিসি ডা. মঞ্জুরুল আলম জানান, টাকা লেনদেন নিষেধ এমন একটি সাইনবোর্ড হাসপাতালে টাঙানো আছে। আর চিকিৎসা সেবার বিপরীতে টাকা নেয়ার বিধানও নেই। তবে লিছা বেগমের টাকা নেয়ার বিষয়টি শুনেছি। আমরা শনিবার তাকে শোকজ করবো। পরে একটি তদন্ত কমিটিও করা হবে। পরবত্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নরসিংদীর ডিডি শেখ শাহীদুজ্জামান জানান, সরকারী সেবা প্রদান করে টাকা নেয়ার কোন বিধান নেই। কেউ যদি এরকম কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে এবং আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা ব্যাবস্থা নেবো। তবে এই মুহূর্তে আমি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এডিসিসি ডা. মঞ্জুরুল আলম এর সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. আমিরুল হক শামীম জানান, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে সব সময় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এখানে ডেলিভারী করিয়ে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। যদি টাকা নিয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থ নেয়ার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিধপ্তরের নরসিংদীর ডিডিকে জানাতে হবে। তারপরেও জেলা সিভিল সার্জন হিসেবে বিষয়টি আমি দেখছি

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories