আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ একসঙ্গে যুক্ত। তাই শরীরের অসুস্থতার খবর জানতে সচেতন থাকতে হবে। অনেকেই জানেন না জিহ্বা আমাদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন খবর দেয়। আর এ কারণেই চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে রোগীর জিহ্বার রঙ ও আকার দেখে রোগ নির্ণয় করেন, শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
আমরা অনেকেই হয়তো বিষয়টার দিকে সেভাবে নজর দেই না তবে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। হেলথলাইণের প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তারা জানান, প্রতিদিন জিভ পরিষ্কার রাখলে অনেক রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তাই প্রতিদিন দাঁত মাজার সময়ই ভালো করে জিভ পরিষ্কার করুন। দাঁত ব্রাশ বা জিভ পরিষ্কার করার সময় আপনি নিজেই জিভ পরীক্ষা করে জানতে পারেন কোনো রোগে ভুগছেন কিনা।
স্বাভাবিক জিহ্বার রঙ: চিকিৎসকরা বলেন, সাধারণত মানুষের জিহ্বার রঙ হালকা গোলাপি। আর জিহ্বার উপর খুব পাতলা সাদা একটা স্তর থাকবে। আর জিহ্বার প্যাপিলি থাকে যেটা দেখতে ছোট ছোট নুডলসের মতো যেটাও হালকা গোলাপি হয়ে থাকে। এটা আমাদের খাবারের স্বাদ বুঝতে সহায়তা করে। প্যাপিলি স্বাদ কোরক নামেও পরিচিত।
লালরঙের জিহ্বা: যদি হঠাৎ করে জিভের রঙ লাল হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন স্বাস্থ্যের সমস্যা তৈরি হয়েছে। শরীরে ভিটামিন ডি ১২ বা ফলিক এসিডের ঘাটতি হলে এমনটা হয়ে থাকে। যদি জিভের মধ্যে লাল লাল ছোপ দেখা যায়, তাকে বলে জিওগ্রাফিক এর অর্থ শরীরে এনার্জি বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কোনও অ্যালার্জির কারণেও এমনটা হতে পারে। চর্মরোগ, র্যাশ প্রভৃতি রোগের লক্ষণ হতে পারে।
বেগুনি রঙ: জিহ্বার রঙ গোলাপি থেকে বেগুনি হলে সাবধান। কারণ এটা শরীরে ফুসফুস এবং হৃদরোগের সংকেত দেয়। তাই জিহ্বা বেগুনি রঙ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
নীল রঙের জিহ্বা: দীর্ঘদিন ধরে শরীরে কোনও সমস্যা থাকলে জিহ্বার নীল হতে শুরু করেন। এটার অর্থ শরীরে ভিটামিন বি-এর ঘাটতি রয়েছে। মনে রাখবেন, শরীরে অক্সিজেনের অভাব হলে জিভের রং পাল্টে গিয়ে নীল বর্ণ হতে থাকে।
সাদা জিহ্বা: জিভের উপর সাদা রঙের আবরণ তৈরি হলে বুঝবেন শরীরের কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছে। শরীরের আর্দ্রতা হ্রাস পেলে জিভের উপর সাদা রঙের পুরু আস্তরণ পড়ে যায়। পনিরের মতো জিভের মধ্যে সাদা স্তর পড়লে লিউকোপ্লাকিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কখনও কখনও ফ্লু দেখা দিলে এমন অবস্থা হয় জিভের।
হলুদ জিহ্বা: হালকা গোলাপী থেকে জিভের রঙ যদি হলুদ রঙের হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। হজম তন্ত্রের সমস্যা, লিভারের সমস্যা কিংবা পেটের সমস্যার জন্য জিভের রঙ হলুদ হয়ে যায়।
বাদামি রঙের জিহ্বা: অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যাফাইন খেলে অনেকেরই জিভ বাদামি আকার ধারণ করে। ধূমপান করলেও ঠোঁট ও জিভের রঙ বদলে বাদামি হয়ে যায়। ধূমপান, কফি খাওয়ার ফলে অনেকেরই জিভের রঙ সারা জীবনের মতো বাদামি হয়ে যায়।
Leave a Reply