যখন বয়স ৩০ পার হয়েছে, সরকারি চাকুরীজীবি আমি। সব সময় মনে কিছু ভাবনা ছিল আমার। বিয়ের বয়স হয়েছে মেয়ে খুঁজতে গিয়ে শত ভাবনা। বিয়ে করলে চাকুরীজীবি মেয়ে বিয়ে করবো। বার বার মনে প্রশ্ন জাগে যদি আমি মারা যাই, আমার সন্তানদের নিয়ে কি করবে। যাতে বউ নিজে কিছু করে চলতে পারে।
তারপর, ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্ত নিলাম নার্স মেয়ে বিয়ে করবো।নার্স ছাড়া বিয়ে করবো না। দুইজন চাকুরীজীবি হলে সংসার ও সুন্দর হবে।
অবশেষে খুঁজে খুঁজে নার্স মেয়েই পেলাম,আমাদের বিয়ে ঠিক হয়। অনেক চিন্তা ভাবনা করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আমি দেখতে এতটা সুন্দর নই, সরকারি চাকুরীজীবি হওয়ায় নার্স অল্প বয়সী সুন্দরী মেয়েও রাজি হয়ে গেল। আমাদের বিয়ে হওয়ার কয়েকদিন পর বউ যখন নার্স ঘরের সীমাবদ্ধতা শেষ। আমি সরকারি চাকুরীজীবি, বউ নার্স ডিউটি চলতেই থাকে। আমাদের মধ্যে ভালোবাসা আছে, মিল আছে, যেমন চাইছিলাম তেমন পেলাম আমি।আমি দিনের বেলায় ডিউটিতে থাকি আর বউ মাসের বেশিরভাগ দিনই রাতের ডিউটিতে থাকে হাসপাতালে। সংসারী বউ চাইনি চেয়েছি নার্স, তাই এখন সময় না পেলেও দুঃখ নেই। দু’জনের একে অপরের কাছে সময় টা আর হয়ে উঠে না সংসারের দুজনের দায়িত্ব টা শুধু পেশার উপরেই।দিন দিন যেন আমাদের দুজনের সময় কমে যাচ্ছে। ভালোবাসা টা আছে কিন্তু সময় টা নেই।বউ সংসারের কাজের থেকে নার্স টাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। দিনের বেলা আমি বাসায় থাকতে পারি না আর রাতের বেলা বউকে কাছে পাই না। শত শত ভাবনা নিয়ে আমি নার্স মেয়ে বউ করে এনেছি। আজ আমি না পাচ্ছি শান্তি, না পাচ্ছি সুখ।দুইজনেরই সংসারের প্রতি মায়া নেই, সময় নেই। শুধু টাকা আর টাকা করেই আমাদের জীবন এভাবে চলছে বহুদিন।সুন্দরী নার্স বউ আমার, আমাকে সময় দেওয়ার মতোই তার হাতে সময় নেই।দিন দিন যেন বউ খুব অহংকারী হয়ে যাচ্ছে। যখন বাড়ি ফিরে বউয়ের মেজাজ থাকে গরম খিটখিটে। আমি মনে মনে ভাবতে থাকি কি চাইলাম আর হলো এখন। নিজেই তো অনেক ভেবে চিন্তে বিয়ে করলাম নার্স দেখে। এখন বউ কথা শুনে না, বেশিরভাগ সময় চলে যায় বাহিরে ডিউটিতে। আমাকে ভালো রাখার জন্য ভালোবাসার জন্য সময় নেই। দুজনই খুব ব্যস্ত থাকতে হয়, মাসের পর মাস যায় ৪ বছর হয়ে গেছে আমাদের কোনো সন্তান হয় নি এখনো। সন্তান নিয়ে বউয়ের কোনো চিন্তাই নেই, আমার বয়স তো কম হচ্ছে না। কদিন আর বাঁচবো আমি,চিন্তায় চিন্তায় ভালো লাগে না আমার। বিয়ের আগে কি ভাবতাম আমি আর এখন কিরকম হচ্ছে আমার সাথে। বউ তো সুন্দরী আর নিজের মনের মতো একজন নার্স তাতেই নিজেকে শান্তনা দিয়ে রাখি। সব সময় ভাবতাম বউ বেকার হলে যদি আমি মরে যাই কিভাবে চলবে। তাই নিয়ে এলাম নার্স খুঁজে আমার বউ করে।উল্টো হয়ে গেল এখন না পারি কিছু বলতে না পারি সহ্য করতে। ভালোবাসাটা খুবই কম, সন্তান নেই, মনে শান্তি নেই আমার। বউ এখন আর আমাকে আগের মতো সহ্য করতে পারে না।চিন্তা করতাম আর চেয়েছিলাম বউয়ের ভালো, এখন নিজেই এতটা ভালো থাকতে পারি না।নিজে চাকরী করি বউও নার্স হিসেবে এখন দুজন শান্তির পরিবর্তে অশান্তিতে আছি। কারো কথার মিল নেই, কাজের মিল নেই।ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এখন নিজের জীবনটা অন্ধকার করেছি নিজেই আমি।কাউকে কিছু বলতে পারি না আর কাউকে বলতেও পারবো না মনের ব্যথা।আসলে আমরা যাই ভাবি না কেন আমাদের ভাবনাটা পুরো পাল্টে যায়।
Leave a Reply