নেত্রকোনায় সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে ঘনঘন মামলা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ সিএনজি চালকরা সড়ক অবরোধ করেছে।
সোমবার শহরের কুরপাড় পেট্রল পাম্পের সামনের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়কের অবরোধ তুলে নিতে বললে বিক্ষুব্ধ সিএনজি চালকদের সাথে পুলিশের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে । শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও কোনো মামলা করা হয়নি।
জেলা অটো টেম্পো, অটো রিকশা ও সিএনজিচালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, জেলার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল দাস দায়িত্বে আসার পর থেকেই ট্রাফিক পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে নানা অজুহাতে একই গাড়ির বিরুদ্ধে মাসে ৩/৪ টি করে মামলা দিচ্ছেন। বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি এমতাবস্থায় সিএনজি চালকরা পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ওই ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল দাস ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক নেতা বলেন, ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিয়েই ক্ষান্ত হয় না, অনেক সময় তারা শ্রমিকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, বাবা-মাকে তুলে গালিগালাজ দেয়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল দাসের নির্দেশে কুড়পাড়স্থ সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে ট্রাফিকের এ এস আই আকবর হোসেন মামলা দিলে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এ সময় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল রঞ্জন দাসের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন অটো টেম্পো, অটো রিকশা ও সিএনজি চালকরা।
কুড়পাড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এএসআই আকবর হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা সোমবার কুড়পাড় এলাকায় তিনটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। খবর পেয়ে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুইটি গাড়ি জোর করে ছাড়িয়ে নেন। আমরা তাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানালে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
বিষয়টি জানতে চাইলে জেলা অটো টেম্পো, অটো রিকশা ও সিএনজি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল শেখ জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি, আমরা পুলিশ-শ্রমিক ভাই ভাই, সব সময় মিলেমিশে থাকতে চাই।
নেত্রকোনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-২) হেলাল উদ্দিন শেখ বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করার অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি টিআইকে প্রত্যাহার করা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। আর কোনো নিরপরাধ শ্রমিক যেন মামলার হয়রানির শিকার না হয় সেই ব্যাপারে কথা বলা হবে।
শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল রঞ্জন দাসের মুঠোফোনে কল করে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ লুৎফর রহমান বলেন, পুলিশের সঙ্গে সিএনজি শ্রমিকদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরে তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। দুপুর ১টার পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply