আসন্ন রমজানে বন্দর নগরী চট্রগ্রামে ভোগ্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না। ইতোমধ্যে প্রায় সবধরনের পণ্যেরই সরবরাহ বেড়েছে এবং মজুতও পর্যাপ্ত। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত কয়েকদিনের পর্যবেক্ষণ এবং পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে পণ্য আমদানি কয়েক মাস আগে কিছুটা কমলেও তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। আগামী মার্চের শেষ ভাগে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।এই উপলক্ষে যারা আমদানিতে এলসি খুলেছেন, তাদের পণ্য বাজারে আসা শুরু হয়েছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সংকট না থাকায় বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাম তেলের দাম মণপ্রতি ৪০ টাকা কমেছে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬৬০ টাকায়। আর প্রতি মণ সয়াবিন তেলের দাম ৩০ টাকা কমেছে।বর্তমানে সেটা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৬০ টাকায়।
ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে ৬ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকায়, চীনা রসুন কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকায় এবং চীনা আদা কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। মসুর ডালের দাম কেজিতে ২ টাকা কমে এখন বিকোচ্ছে ৯০ টাকায়।
অস্ট্রেলিয়ান ছোলা কেজি প্রতি ৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকায়, ভারতীয় ছোলা কেজিতে ৫ টাকা কমে বিকোচ্ছে ৮০ টাকায়। মটর ডালের দাম কেজিতে ৩ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬১ টাকায়। এলাচের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। লবঙ্গ কেজিতে ২৫ টাকা কমে ১ হাজার ৩৪০ টাকায় আর জিরা ৩০ টাকা কমে ৫৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এবং সরবরাহ লাইনে রয়েছে আরো বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য। গুদামেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়তে পারে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি ভালো। অধিকাংশ পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে দর নিম্নমুখী থাকায় আমাদের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বহু ভোগ্যপণ্যের শিপমেন্ট হয়েছে। শিগগির এগুলো দেশে এসে পৌঁছাবে। এলসি ডেচপাচ সহজ করা গেলে বাজার আরো সুষম হবে। তবে চিনির আন্তর্জাতিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তাই চিনিতে কিছুটা অস্বস্তি দেখা যেতে পারে। এক্ষত্রে ডিউটি কমানো গেলে দাম স্বাভাবিক থাকবে।
তিনি মনে করেন, ব্যবসায়ী নেতারা কমিটি গঠন করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের হয়ে দাম নির্ধারণ করলে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ পাবে না কেউ। অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অথবা অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা থাকে। এসময় প্রশাসনের অভিযানে অসাধুদের সঙ্গে সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। এতে ভয় থেকেও বাজার অস্থির হয়ে ওঠার আশংকা থাকে।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বাড়ার কোনো কারণ দেখি না। এক কোটি লোক টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ৫ কোটি মানুষের চাহিদা মিটছে। ফলে দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি সরকারের পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছেন।
আমদানির মাত্র ২০ শতাংশ এখন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অবশিষ্টগুলো ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হলেও পণ্য বন্দর থেকে সরাসরি ঢাকা বা দেশের অন্যান্য প্রান্তে চলে যায়। তেল, চিনির অধিকাংশ মিল এখন ঢাকায়। চট্টগ্রামে রয়েছে শুধু এস আলম ও টিকে গ্রুপের মিল। ফলে মিল মালিক, আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীসহ সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন সভা করা যেতে পারে। এতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হতে পারে।
Leave a Reply