আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাত আয়োজিত ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা ২০২৩ এর দ্বিতীয় পর্ব। আখেরি মোনাজাতের সময় আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে কহর দরিয়া তুরাগ নদের তীর মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো টঙ্গী উত্তরা এলাকা।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লিরা আকুতি জানান। অনেকে কেঁদে কেঁদে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় মুসল্লিদের। বিশ্ব শান্তির জন্য দোঁয়া করেন। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে ১২টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভী। এর আগে তিনি হেদায়েতি বয়ান করেন। হেদায়েতি বয়ান বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর।
রোববার ২২জানুয়ারি বাদ ফজর দিল্লির মোরসালিন নিজামুদ্দিনের বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার তৃতীয় দিন শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফুল। বয়ানের পর নাস্তার বিরতি দিয়ে ৯টা থেকে মাওলানা মোশাররফ তালিম করবেন। সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় হেদায়েতের কথা।
৬২ দেশের প্রায় ৮ হাজার ও দেশের লাখ লাখ মুসল্লির আগমনে মুখর ইজতেমা ময়দানসহ টঙ্গীর আশপাশ ময়দান। ময়দানের আশপাশে যে যেখানে দাঁড়িয়ে বা বসেছিলেন সেখান থেকেই হাত তুলেন আল্লাহর দরবারে। অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মুঠোফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ফেসবুক লাইভ, এফএম রেডিও, হ্যান্ড মাইক, মসজিদের বড় মাইক ও অনলাইনের মাধ্যমে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারের কারণে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে উত্তরা, টঙ্গী, গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, বিপণি-বিতান বন্ধ ছিলো তবে শিল্প কলকারখানা খোলা ছিলো।

আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত তুরাগ তীর: টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী কহর দরিয়া তুরাগ নদের তীরে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ ছুটে এসেছেন আখেরী মোনাজাতে শরিক হতে। রোববার সকাল থেকেই আখেরি মোনাজাতের কারণে ইজতেমা মাঠের আশপাশের সড়কের যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। যারা ইজতেমার ময়দানে পৌঁছাতে পারেননি তারা পথে-ঘাটে, বাস, রিকশা, আশপাশের মসজিদ, দোকান-পাটে বসে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। সম্মিলিত আমিন, আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো ইজতেমা ময়দান। সর্বস্তরের মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সেই প্রার্থনার তরঙ্গ এসে মিলেছে দূর-দূরান্তে হাত উঠানো মানুষের মাঝেও। মোনাজাতে নিজেদের হৃদয়ের আবেগ-অনুভূতি আল্লাহর কাছে তুলে ধরেছেন, অন্তর থেকে আমিন, আমিন ধ্বনি আর চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছেন তারা।
আব্দুল্লাহপুর ব্রিজের পাশে মসজিদ, টঙ্গীর দত্তপাড়া, আরচিপুর, আউচপাড়া এলাকার মাইক থেকে ভেসে আসে ইজতেমার ময়দানের আখেরি মোনাজাতের ধ্বনি। আমিন, আমিন ধ্বন্নিতে মুখরিত ও কম্পিত হয়ে উঠে পুরো টঙ্গী ও উত্তরা অঞ্চল।
Leave a Reply