টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে এসেছেন নারী মুসল্লিরা। নারীরা দল বেঁধে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, স্টেশন রোড, পূর্ব থানা গেইট এলাকা ও বাটা গেইটসহ আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে বসেছিলেন আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে। মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের সমাপ্তি হলো। টঙ্গীর কহর দরিয়া তুরাগ নদের তীরে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। মোনাজাতে অংশ নিতে পুরুষদের পাশাপাশি যোগ দিতে দেখা গেছে হাজার হাজার নারী মুসল্লিদের।
রোববার ২২জানুয়ারি ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ গাজীপুরের সব পথ লোকে লোকারণ্য। ময়দানের চারপাশে লাখ লাখ মুসল্লির পদধ্বনিতে কহর দরিয়া তুরাগ নদের আশপাশ রূপ নিয়েছে এক বিশাল কাফেলায়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাচ্চাসহ নারী-পুরুষ সবাই দলবেঁধে এসেছেন ইজতেমা ময়দানে।

সকালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের উদ্দেশে এসে হোসেন মার্কেট নামেন শিল্পী আক্তার নামের এক নারী। সঙ্গে আছে ছেলের বউ কুলসুম আর মেয়ে ফারহানা। হোসেন মার্কেট থেকে হেঁটেই এগিয়ে চলেছেন তারা, সঙ্গে যাচ্ছেন আরও কয়েকটি নারীদের দল, যাবেন আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে।
টঙ্গী পূর্ব থানার গেইটে দাঁড়িয়ে বা বসে মোনাজাতে অংশ নিবো। আমার মেয়ে আর ছেলের বউকে সঙ্গে এনেছি। এখানে এসে দেখছি আমাদের মতো হাজার হাজার নারী মুসল্লিরাও এসেছেন মোনাজাতে অংশ নিতে। কে জানে আল্লাহ কার উছিলায় আমাদের দোঁয়া কবুল করেন। দ্বিরাশ্রম এলাকা থেকে মোনাজাতে এসেছেন খাদিজা বেগম (৭০), উনার সঙ্গে আরো ৮/৫ জন বয়স্ক নারী। তিনি জানান, প্রতিবার আখেরি মোনাজাতের দিন চলে আসি। বনমালা হয়ে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতাল মাঠে এসে পৌঁছেছি। কোন ক্লান্তির ছাপ নেই তার। প্রতি বছর ইজতেমায় এসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিই। আমরা দলবেঁধে পাড়ার নারীরা আসি। আজও সেই লক্ষ্যে এসেছি।
আশুলিয়া থেকে এসেছেন লাইলী আক্তার। তিনি বলেন, আমরা ৯ জন নারী আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোরে এসেছি। ১০ টাকায় পলিথিন কিনে সড়কের পাশে বাটা বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে বসেছি।
রাজধানীর উত্তরা থেকে এসেছেন আফরিনা বেগম। তিনি বলেন, অসুস্থ স্বামী ও সন্তানের রোগমুক্তি কামনা করতে আমি ইজতেমা মাঠে এসেছি। আমি আমার স্বামী সন্তানের জন্য দোঁয়া চাইব আল্লাহর কাছে। আমার সঙ্গে আরও ৪ জন নারী ইজতেমা ময়দানে এসেছেন আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে।
Leave a Reply