আগামী ১৭ ইং সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে গাজীপুর জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি এবং টঙ্গীর চেরাগআলীস্থ বৃহত্তর ট্রাক ষ্ট্যান্ড। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সভাপতির পদ ব্যতিত ১০ টি পদে চলছে প্রচার প্রচারণা।

জানা গেছে, ১১ টি পদের মধ্যে সভাপতির পদটিতে প্রতিযোগী কোন প্রার্থী না থাকায় সভাপতির পদটি সংরক্ষিত রেখে বাকি ১০ টি পদে নির্বাচন অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবারো একই পদে প্রার্থী হওয়া মোঃ আজাদ হোসেন তার সদস্যদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস, ভালোবাসা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহবান জানান।

সেই সাথে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেনের সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং নিরলস দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে উক্ত সংগঠনের সন্মানিত সদস্য মোঃ রিয়াজ হোসেন বলেন, আজাদ ভাই খুব ভালো একজন মানুষ। সদস্যদের বিপদে তিনি সর্বদা পাশে থাকেন। খোঁজ খবর নেন। একদিন রাত ৩ টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকায় আমার ট্রাকসহ চিন্তাইকারী আমাকে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায় এবং আমার নিকট ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমি তখন সুকৌশলে সাধারণ সম্পাদককে একটি মেসেজ দেই, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজাদ হোসেন ভাই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় হাইওয়ে পুলিশ এসে আমাকে গাড়িসহ উদ্ধার করে। রাত ৩ টায় কেউ এমন উদ্যেগ নেয় আমার জানা নেই। যা আমাদের আজাদ ভাই করেছে।

অপর সদস্য মোঃ সোহেল আহাম্মেদ বলেন, ২০২১ সালের মার্চ মাসে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাছা থানার বোর্ড বাজার এলাকায় আমার গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে একজন পথচারী মারা যায় তখন আমার গাড়িটি গাছা থানা পুলিশ আটক করে, আমি বিষয়টি আমাদের মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি সহযোগীতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে দেন। মালিকদের মধ্যো আরও বহু সদস্য এবং সদস্য ছাড়া অনেকেই বলেছেন যখনই যত রাতই হোক বিপদে পড়ে বা যে কোন কাজে আজাদ ভাইকে ফোন দিলে কোন দিন তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এমন কেউ বলতে পারবেন না। তার সর্বাত্বক সহযোগীতা আমরা পাই। তাই আমরা তার বিজয় প্রত্যাশী। আশা করি আমরা তাকে বিজয়ী করে আনতে সক্ষম হবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদস্যদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বটবৃক্ষের মত ছায়া হয়ে একজন পিতার ভুমিকায় ছিলেন, আছে এবং থাকবে। এতদিন যেভাবে মালিক সমিতির সদস্যদের ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছেন, তাতে করে এমন একজন নেতাকে সবসময় আমাদের পাশে রাখা অবশ্যই দরকার এবং আমরা সবাই তাকে বিজয়ী বেশে দেখতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে আগামী নির্বাচনে আজাদ ভাইয়ের পাশে থাকতে চাই এবং আমরা সকলে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এব্যাপারে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজাদ হোসেন বলেন, বিগত ৩০/০৪/২০২০ ইং তারিখে গাজীপুর জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির(রেজিঃ ঢাকা ৪৪৮৬) নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারনে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকারি ভাবে নির্বাচনটি বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় নির্বাচনের প্রস্তুুতি নেওয়া হয় । তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৬/০৮/২০২২ ইং তারিখে “নির্বাচনী তফছিল” ঘোষনা করেন নির্বাচন কমিশনার মহোদয়গণ এবং আগামী ১৭/০৯/২০২২ ইং তারিখ নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। সদস্যদের অনুমতি সাপেক্ষে গাজীপুর জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির নির্বাচনে আমি মোঃ আজাদ হোসেন উক্ত সংগঠনের সকল সদস্য এবং ভাইদের দোয়া ও ভোটের প্রত্যাশা নিয়ে আবারো সাধারন সম্পাদক পদে খেজুর গাছ মার্কা নিয়ে একজন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমি আমার খেজুর গাছ মার্কায় আপনাদের ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছি।

বিগত দিনে আমি সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে থাকাকালীন সময়ে সততা ও নিষ্ঠার সহিত সমিতির সদস্যদের পাশে একজন কর্মচারীর ন্যায় থাকার চেষ্টা করেছি, যেহেতু আমাদের গাজীপুর জেলার গাড়িগুলো ৬৪ জেলায় চলাচল করে সেহেতু আমি সকল জেলার সংগঠন গুলোর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বয় করে নির্ভীগ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি, গাজীপুর জেলা ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির পক্ষে সকলকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পন্য পরিবহনে থার্ড পার্টি ইন্সুরেন্স বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে লিখিত দাবি পেশ করার মাধ্যমে একাধিকবার মিটিং করে আলোচনার মাধ্যমে থার্ডপার্টি ইনসুরেন্স বাতিল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, যাহা অদ্যাবধি পর্যন্ত বহাল আছে। আমি যে শুধু মালিক সমিতির জন্য কাজ করি তা নয় বরং শ্রমিকদের অনেকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন হলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে অনেককে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দিয়েছি।

আগামী নির্বাচনে যদি সাধারণ সদস্যরা আমাকে নির্বাচিত করেন, আমি সদস্যদের মাসিক ধার্যকৃত ১০০ টাকা চাঁদার বিনিময়ে সকলকে ইন্সুরেন্সের আওতায় নিয়ে আসবো ইনশাল্লাহ। আমি সদস্যদের নেতা হিসেবে না একজন কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছি, করছি আগামীতেও করবো। আমার সদস্যদের প্রতি আস্তা এবং বিশ্বাস রয়েছে তারা আমার পাশে ছিলো আছে থাকবে। আমি ও অঙ্গীকারবদ্ধ অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও আমার সদস্য ভাইদের সুখে দুঃখে সার্বক্ষণিক পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশাল্লাহ। সবাই আমার জন্য দোঁয়া করবেন ।
Leave a Reply