পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় গড়ে উঠছে একটি জাদুঘর ও একটি প্রজাপতি পার্ক।বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেতুর দোগাছি সার্ভিস এরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রাণী জাদুঘরটি প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে।এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৫২টি প্রজাতির প্রাণীর নমুনা সেখানে স্থান পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কিউরেটর আনন্দ কুমার দাস।

ঘরের ভেতর কয়েকটি পার্টিশন করে প্রাণীগুলোকে এমনভাবে রাখা হচ্ছে,মনে হয় একেবারেই জ্যান্ত।বিষধর পদ্ম গোখরা থেকে শুরু করে কুনোব্যাঙের নমুনা পর্যন্ত আছে এই জাদুঘরে।দিনে দিনে বাড়ছে জাদুঘরের সংগ্রহ। টার্গেট রয়েছে ৫ হাজার প্রাণিবৈচিত্র্য রাখার।জাদুঘরে প্রবেশ করে বাঁ দিকে তাকালেই ১০ থেকে ১২টি ভয়ংকর দৃশ্য চোখে পড়বে। সাপগুলো বর্তমানে কাচের বোতলের ভেতরে বন্দি।আর ভয়ংকর পদ্ম গোখরা সাপও কাচের বাক্সে বন্দি হয়ে আছে।

জানা গেছে,২৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর ৮৩টি, ১৬১ প্রজাতির পাখির ৩৯৮টি, ২৬ প্রজাতির উভচর প্রাণীর ৫৩টি, ৩২১ প্রজাতির মাছের ৩৩৬টি, ৩০৬ প্রজাতির শম্বুক জাতীয় কোমলাঙ্গের প্রাণীর ৩০৮টি, ৫৯ প্রজাতির কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণীর ৬৩টি, ১৮৩ প্রজাতির প্রজাপতি ও মথের ২২৮টি এবং পোকামাকড়ের ২২২ প্রজাতির ৩৬১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।এসব নমুনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গঙ্গা নদীর শুশুক,চিতাবাঘ, বাবুবাটান পাখি,হলুদ সাপ,বাইন মাছ,ইলিশ মাছ,মাগুর মাছ ইত্যাদি।বর্তমানে যেসব প্রাণীর দেহ সংগ্রহে আছে সেগুলোর সঙ্গে ৬১ ধরনের ৭৪টি মাছ ধরার সরঞ্জাম,২৬ ধরনের পাখির বাসা, ১৭ ধরনের পাখির ডিম ও ৮ রকমের কঙ্কাল রয়েছে।এভাবে ২০০ থেকে ৫০০ বছর পর্যন্ত প্রাণীর মরদেহ রাখা যায়।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা এবং তার আশপাশের নানা জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগুলোর সঙ্গে পরিচিত করাতে এ জাদুঘরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।যমুনা সেতু গড়ে তোলার পর সেখানেও এরকম একটি জাদুঘর করা হয়েছিল।তবে পদ্মা সেতুর জাদুঘর আরও বড় এবং পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।যেন ভবিষ্যতে দেশের যে কেউ এবং বিদেশিরা এগুলো দেখতে পারেন।
সংশ্নিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে,পর্যটক আকর্ষণের জন্য এই প্রাণী জাদুঘর ও পার্কটি হচ্ছে অত্যন্ত গোছানো ও দৃষ্টিনন্দন।এটি পদ্মা সেতু প্রকল্পের একটি অংশ।প্রাণী জাদুঘর ও প্রজাপতি পার্ক স্থাপনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।এর আগে সেতু কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মধ্যে এ সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।সূত্র আরও জানায়,প্রাণী জাদুঘরটিতে এখন ২৬ জন জনবল দিয়ে কার্যক্রম চলছে।এর মধ্যে ১৩ জন মাঠকর্মী আর কনসালট্যান্ট রয়েছেন,তাঁরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। এ ছাড়া রয়েছে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, টেকনোলজিস্ট ও সাপোর্টিং স্টাফ।পদ্মা সেতু জাদুঘরের কিউরেটর আনন্দ কুমার দাস বলেন, পদ্মা অববাহিকার জেলা শরীয়তপুর,মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর,ফরিদপুর,রাজবাড়ী,মানিকগঞ্জ ও অঞ্চলের প্রাণী নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পদ্মা সেতু প্রাণী জাদুঘর।২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
Leave a Reply