এক মাস সিয়াম সাধনার পর দুইদিন পর পবিত্র মাহে রমজানের ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা দোকান সাঁজিয়েছে নতুন রুপে। প্রতিটি দোকানে নতুন পন্য-সামগ্রীতে ভরপুর। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতা সমাগম বাড়ছে ব্যাপক হারে। উৎফুল্ল বিক্রেতারা।
গত প্রায় ২ বছরে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কয়েকধাপ আক্রমন আতংক কাটিয়ে এবছর ফুরফুরে স্বভাবে ক্রেতা বিক্রেতারা বেশ আনন্দের সাথে পবিত্র মাহে রমজানের ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীসহ সকল ব্যবসায়ী বৃন্দ। এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় সরকারী বে-সরকারী লম্বা ছুটি হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধবদের সাথে মিলে মিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগী করতে এলাকাতে ছুটে আসছে। বিগত দুই বছর মানুষ সঠিক ভাবে পরিবারকে নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে পারেনি মহামারী করোনার কারণে। এ বৎসর করোনার ধকল শিথিল হওয়ায় এবং সরকারী বে-সরকারী দীর্ঘ ছুটি পেয়ে সবাই আসছে। অন্যদিকে হালুয়াঘাটের বিপনী বিতান, বিভিন্ন জামা, কাপড়ের দোকানসহ পন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিশেষ করে সোয়াবিন তেলসহ মাছ মাংস’র মূল্য বৃদ্ধিসহ যানবাহন গুলোর মধ্যে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অটো,সিএনজি, ইজি বাইক, ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল চালক এবং মালিকপক্ষ সরকারী নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে দ্বিগুন ভাড়া নিচ্ছে,ফলে যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে অহরহ।

বিভিন যানবাহন ষ্টেন্ডে আগত যাত্রীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ দিকে যতই ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে হালুয়াঘাটে কাপড় ও কসমেটিক দোকান গুলোতে প্রচুর ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। একজন ক্রেতা জানান, দোকানিরা প্রতিবারের চেয়ে এ বছর সকল প্রকার জামা কাপড়ের দাম কয়েকগুন বেশী নিচ্ছে, তবু আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে। দোকানে দামাদামি কাপড় কিনতে গিয়ে ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে তর্ক-বির্তকও প্রায় দোকানে, তবু ক্রেতাদের ভীড় ! কারন ঈদ বলে কথা।
এব্যাপারে একজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, দু-বছর আমরা কোন ব্যবসা করতে পারিনি, দু-বছর পর এবার কিছুটা ব্যবসা হচ্ছে, দু-বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করছি। টেইলার্স দোকানগুলোতে জামা, প্যান্ট, থ্রি-পিচ তৈরিতে দ্বীগুন মুজুরী নেয়া হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা।
এদিকে যানবাহন যাত্রীসহ বাজারেরর নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য-সামগ্রী বা দ্রব্যাধিসহ জামা-কাপড়ের বাজার নিয়ন্ত্রণে হালুয়াঘাটে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার দেশের বিভিন্ন বাজার, বিপনী বিতানে ভোক্তা অধিকারসহ ভ্রাম্যমান আদালত দ্বারা অভিযান পরিচালনা করছেন, কিন্তু হালুয়াঘাটে তা করা হচ্ছে না,ফলে ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছে জিনিষপত্রের মূল্য নিচ্ছে !
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শহর থেকে বেশী মূল্যে জিনিষপত্র, পন্য-সামগ্রী, জামা-কাপড় ক্রয় করে এবং পরিবহনে দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে এখানে আনতে আমাদের খরচ বেশী, তাই মূল্য একটু বেশী না ধরলে আমাদের পুষবে কি করে ?
Leave a Reply