শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার’ অভিজিৎ, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ এর মহাসপ্তমী পূঁজা আজ সৌদি আরবকে অনেক সাহায্য করছে ইসরায়েল: ট্রাম্প কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, ৪ জনের মৃত্যু,আশংকাজনক অবস্থায় ২ জন উদ্ধার বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে: ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেবে বিএসএফ একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী মহাষষ্ঠী অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু এ বছরের দুর্গাপূজা শারদীয় দুর্গাপূজায় সীমান্তবর্তী জেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জসহ ৩ জেলায় থাকছে বিজিবি মোতায়েন এবছর শারদীয় দুর্গাপূজায় নাশকতার ঝুঁকি নেই , নিরাপত্তায় মাঠে আছে ৬ হাজারের বেশি এসআরবি সদস্য

অর্থের অভাবে এতিমখানার নির্মাণ কাজ বন্ধ

বরিশাল প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১১৫ বার

বরিশাল নগরীর পলাশপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছগ্রামের মধ্য কালবার্ড সংলগ্ন রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইর কাজ শেষ হলেও এখনও বাকি রয়েছে ৪র্থ তলার নির্মানসহ ভবনের বাকি কাজ। তবে মহামারী করোনার কারনে ভবনের নির্মাণ কাজ এবং এতিম শিশুদের প্রতিদিনের খাবার যোগার করতে বর্তমানে সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। খাবার এবং অর্থের চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে মহামারি করোনা ভাইরাসের আক্রান্তর সংখ্যা বেড়েই যাওয়ায় এতিম শিশুদের নিয়ে চিন্তার শেষ নেই মাদ্রাসার পরিচালক ফিরোজীর। তিনি সারাদিন ভাবছেন মাদ্রাসাটির উন্নয়ন কাজ নিয়ে। তার পরও পিছু পা দেননি তিনি ইতিমধ্যে মাদ্রাসা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পূর্ন করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এতিমদের কষ্ঠের কথা শুনে তাদের খোঁজ খবর নিতে কিছু দিন পূর্ব বিসিসির মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ্’র নির্দেশে মাদ্রাসায় খাবার নিয়ে ছুটে এসেছিলেন মহানগর আ’লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল। তবে বর্তমানে বেশ কিছু দিন ধরে এতিম শিশুরা আবারও খাবার সংকেটে দিন কাটাচ্ছে।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফিরোজী জানায়, এতিম শিশুদের দেখবাল করার জন্য নিজের পৈত্তিক সম্পতি বিক্রি করে ২০১৫ সালে পলাশপুর এলাকায় একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে প্রায় ৩০ জন এতিম শিশুদের নিয়ে ওই এলাকায় মাদ্রাসা চালু করি। ২০১৭ সালে ওই ঐলাকার ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য একটি ভাঙ্গা ঘরসহ ২ শতাংশ জমি কিনে মাদ্রাসা চালিয়ে আসি। হাঠৎ এতিমদের কষ্ঠ দেখে সংবাদকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র ফিচার প্রকাশিত করলে তা নজরে আসে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর এমপি’র। পরে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সহযোগীতায় এতিমদের থাকার জন্য জমি ও ভবন হয়। কিন্তু বর্তমানে ছাত্র বেড়ে যাওয়ার কারনে নিচ তলায় ছাত্রদের রাখতে খুব সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইর কাজ সম্পূর্ন হলেও চার পাশে দেয়াল ও জানালা না থাকায় ছাত্রদের দ্বিতীয় তলায় পারছি না। দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পূর্ন করতে হলে রড,ইট,বালু, সিমেন্ট ও অর্থের প্রয়োজন। সংবাদকর্মীদের প্রশ্নে কেঁেদ কদেঁ তিনি বলেন, এটা বস্তি এলাকা, এখানের মানুষ দিন আনে দিন খায়। তাদের নিজের খাবার যোগার করতেই কষ্ট হচ্ছে। তারা মাদ্রাসায় সহযোগীতা করবে কি ভাবে। এতিমদের জন্য আমার পৈত্তিক সম্পতি বিক্রি করেছি। এবং কি মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের বিভিন্ন এনজিও’র কাছ থেকে লোন নিয়ে কাজ চালিয়েছি। বর্তমানে এনজিও সমিতির কাছেও অনেক টাকার দেনায় আছি। মাদ্রাসায় শতাধিকের বেশি ছাত্র রয়েছে। তাদের তিন বেলা খাবার ও শিক্ষকদের বেতন দিতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছি। এর মধ্যে মাদ্রাসায় নেই কোন চাল,ডালসহ কোন প্রকারের খাবার। তাই টেনশনেই আমার দিন পার হচ্ছে। এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসার নিচ তলায় জায়গার সংকট থাকার কারনে মাদ্রাসার ছাদে বসে ইসলাম শিক্ষা নিতেন কোমলমতী শিশুরা। কিন্তু কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারনে ছাদে বসতে না পাড়ায় পড়া লেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিছু ছাত্র। মাদ্রাসার পরিচালক আরো বলেন, এতিমদের মাথা জগার ঠাই করে দেওয়া মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ স্যার র্দীঘ দিন ধরে অসুস্থ তাই মন্ত্রী সাহেবের অসুস্থতা কামনা করে প্রতিদিন তার জন্য দোয়া করে যাচ্ছে এতিম শিশুরা। আল্লাহ তালা যেন মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে সব সময় সুস্থ রাখেন। স্থানীয়রা বলেন এই মাদ্রাসাটির ৪ তলা ভবনের কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত একতলা হয়েছে তাই এতিমখানাটির এতিম শিশুদের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে অর্থ, ইট, সিমেন্ট সহ খাবার সংকট থাকার কারনে বন্ধ হয়ে আছে উন্নয়ন কাজ। অর্থর জন্য চিন্তায় রয়েছেন মাদ্রাসার পরিচালক ফিরোজী। করোনার মধ্যে এতিমদের সাহায্যের জন্যও কেউ এগিয়ে আসছেনা। এক কথায় বলা যাচ্ছে বর্তমানে কষ্টে জীবন-যাপন করছে এতিমখানার শিশুরা। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই অসহায় শতাধিক এতিম শিশুর মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে বলে দাবি তাদের। মাদ্রাসার এতিম শিশুদের চাল,ডাল,খাবার দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। অথবা মাদ্রাসার উন্নয়ন মূলক কাজের জন্যও ইট,বালু, রড, সিমেন্ট বা অর্থ দিয়ে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মাদ্রাসার কতৃপক্ষ। সাহায্যে দিতে মাদ্রাসার বিকাশ নাম্বার ০১৯২৪৬১২৯১৮ অথবা পলাশপুর রহমানিয়া ক্বিরাতুল কুরআন হাফিজি মাদরাসা নামে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গির্জামহল্লা বরিশাল শাখার সঞ্চায়ী হিসাব নং ০১০১১২০১২৬৪৫৪ যোগাযোগ করে সাহায্য পাঠাতে পারেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories