শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরে দুটি হত্যার রহস্য উম্মোচন ও ২ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১০০ বার

গাজীপুরে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের হাতে খুনের দুটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ রহস্য উম্মোচন এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিতসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হল নারী হত্যায় অভিযুক্ত মো. সুমন মিয়া (৩৬)। সে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কপাটিয়াপাড়া এলাকার মো. বাদশা মিয়ার ছেলে। তাকে বুধবার ভোর পৌণে ৪টার দিকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত মোঃ দুখু মিয়া সুমন (২২) কাপসিয়া উপজেলার শহরটোক গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে। তাদেরকে বৃহষ্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

২০১৯ সালের ২১ জুন শ্রীপুর উপজেলার পশ্চিম কপাটিয়াপাড়া এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের পুকুর থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর(২০) গলাকাটা ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মামলাটি শ্রীপুর থানা পুলিশ তিন মাস তদন্ত করে। পরে পিবিআই দায়িত্ব নিয়ে ২০ ফেব্রæয়ারী থেকে তদন্ত শুরু করে।

প্রযুক্তি ও নানা সোর্স ব্যবহার করে অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। অভিযুক্তের বর্ণণার বরাত দিয়ে পিবিআই’র গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, স্ত্রী বিদেশে থাকায় সুমন মিয়া প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের মেয়েদের বাড়িতে নিয়ে এসে ফূর্তি করত। এদিকে সুমনের সাথে মোবাইল সেট নিয়ে প্রতিবেশী হৃদয়ের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৯ সালের ২০জুন পার্শ্ববর্তী নয়নপুর বাজার থেকে রোজিনা (২০) নামে অজ্ঞাত নারীকে ১ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়ে তার বাসায় শারীরিক সম্পর্ক করে। ওই নারী রাতে চলে যাওয়ার সময় সুমনের কাছে চুক্তির টাকা দাবী করে। টাকা দেওয়ার কথা বলে সুমন বাড়ি থেকে বটি নিয়ে হৃদয়ের বাড়ি সংলগ্ন বাঁশ বাগান ও জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে ওই নারীকে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে বটি দিয়ে গলা কেটে খুন করে। পরে মরদেহ টেনে হিঁচড়ে হৃদয়ের পুকুরে ফেলে রেখে যায়।

এসপি জানান, ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট কাপসিয়া উপজেলার সালুয়াটেকি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস (৩০) এর মরদেহ একই এলাকার সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর নানার বাড়ীর দক্ষিণ পাশে পুকুর পাড়ে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মাতা মোর্শেদা সৈয়দ জহির আহসান জাহিদকে প্রধান অভিযুক্ত করে কাপাসিয়া থানায় মামলা রুজু করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মো. দুখু মিয়া সুমনের বরাত দিয়ে এসপি জানায়, সৈয়দ জহির আহসান জাহিদের সাথে তার নানার বাড়ীর সম্পত্তির ওয়ারিশ নিয়ে তার মামা রবিন ভূইয়ার বিরোধ দেখা দেয়। ভিকটিম ইদ্রিস প্রথমে জাহিদের পক্ষ নিয়ে সুমনকে জমি দখলে সহযোগীতা করে। কিছুদিন পর জাহিদের সাথে ভিকটিম ইদ্রিসের মতবিরোধ দেখা দেয়। এতে ইদ্রিস আলী তার কাছ থেকে সরে গিয়ে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর মামা রবিন ভঁ‚ইয়ার সাথে যোগ দেয়।

এদিকে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে স্থানীয় টোক বাইপাসে ভিকটিম ইদ্রিসকে ভয় দেখায়। এ খবর শোনে জাহিদের মামা রবিন ভূইয়া গ্রেপ্তারকৃত মোঃ দুখু মিয়া সুমন ও তার সহযোগী আসামীদের সাথে ইদ্রিসকে হত্যার পরিকল্পনা করে ১২ লাখ টাকা চুক্তি করে।

পরে ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট রাত ২টার দিকে ইদ্রিসকে ইয়াবা ট্যাবলেট আনার জন্য মোবাইল ফোনে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। সেখানে যাওয়ার পর গলা চেপে ধরে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে ও এলোপাথারীভাবে মারপিট করে ইদ্রিসকে হত্যা করে। হত্যার পর সৈয়দ জহির আহসান জাহিদের নানা বাড়ীর পুকুরপাড়ে ইদ্রিসের মরদেহ ফেলে রেখে চলে যায়।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories