টঙ্গীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক স্থানীয় ড্রেনেজ উন্নয়ন কাজে গাফিলতি আর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রায় ৩৬ ঘন্টা গ্যাস সরবারহ বন্ধ থাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জনবহুল ৫৫ নং ওয়ার্ডের জন-সাধারণ চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
ভূক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, গত প্রায় ৩৬ ঘন্টা অত্র এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় শত শত বাড়ির মালিক এবং নিন্ম আয়ের ভাড়াটিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ রান্না-বান্নাসহ পারিবারিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ করতে পারছে না। ফলে বাসা-বাড়িতে শিশু কিশোর বৃদ্ধদের চিড়া, মুড়ি কিংবা শুকনো খাবার খেয়ে কোন মতে দিন কাটাতে হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তুরায় হঠাৎ করে বুধবার বিকেল থেকে খাবার সংকট এমনকি দ্বিগুন মূল্য বৃদ্ধি করায় সাধারণ শ্রমজীবি মানুষ পড়েছে বিপাকে। এছাড়াও অত্র এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে প্রায় এক মাস যাবৎ। সাপ্লাই পানির লাইনে সুয়ারেজের ময়লাযুক্ত পানি মিশে তা দূর্গন্ধে পরিণত হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর ৫৫ নং ওয়ােের্ড পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে একটু বৃষ্টি হলেই অত্র ওয়ার্ডের নতুন বাজার, কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তি, গাজীবাড়ি, মাছিমপুর, টঙ্গী পূর্ব থানা গেইট এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধা থেকে রেহাই পেতে স্থানীয় জন-সাধারণের দাবীর প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপির একান্ত প্রচেষ্টায় গাজীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ নতুন বাজার থেকে ষ্টেশন রোড মোড় এবং ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে উত্তরে তুরাগ নদসহ টঙ্গী পূর্ব থানা গেইট থেকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হয়ে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশঘেঁষে পশ্চিমে তুরাগ নদ পর্যন্ত আরসিসি ড্রেনের উন্নয়ণ কাজ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে উক্ত উন্নয়ন কাজ করার সময় গত বুধবার দুপুর ১২ টায় উত্তর আরিচপুরস্থ হাফিজ উদ্দিন বেপারী রোডের মাথায় তিতাস গ্যাসের পাইপ বিকল হয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত উক্ত বিভাগের কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালে, তারা উপরোক্ত এলাকার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেন। তারপর ৩৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও উপরোক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান গ্যাস সরবরাহে কোন প্রকার কার্যত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ গ্যাস লাইন মেরামতের জন্য স্থানীয় গ্যাস অফিসের সুজন নামে গ্যাসের এক ঠিকাদারের সাথে যোগযোগ করেছি, তিনি জানান লাইনটি মেরামত করতে বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন। এব্যাপারে আমাদের কোন বাজেট না থাকায় লাইনটি মেরামত করতে দেরী হচ্ছে। বাজেট দিলে দ্রুত তা মেরামত করা হবে। ফারুক হোসেন আরো বলেন, ড্রেনের কাজটি আমি করছি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে যে কোন মূল্যে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করছি।
এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস টঙ্গী জোনের ম্যানেজার ও প্রকৌশলী মো. এরশাদ মাহমুদ’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের অফিসিয়াল কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। সেগুলো সমাধান করে কাজ করতে সময় লাগে। ইতিমধ্যে লাইনের মেরামত কাজ চলছে, আশা করছি আজ রাতের মধ্যে তা সমাধান হবে। তবে স্থানীয়রা একটু সহযোগীতা করলে এমন সমস্যা হবে না। সরকারের যে কোন উন্নয়ণ কাছে আমরা স্থানীয় সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।
Leave a Reply