ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ভুয়া পত্রিকার সাইনবোর্ড ও সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) প্যাকেটজাতকরণ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি পত্রিকা কার্যালয়ের আড়ালে পরিচালিত কারখানা থেকে আনুমানিক ২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, একই প্রতিষ্ঠানে এর আগে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল এবং ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার শর্তে সিলগালা খুলে দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ শর্ত না মেনে গোপনে আবারও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। সেখানে যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম উৎপাদন, প্যাকেটজাত ও মজুদ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। এটি কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়। অনুমোদনহীন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অবৈধভাবে প্যাকেটজাত ও মজুদ করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, এসব পণ্যের অধিকাংশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে আনা হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি গুণগত মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এসব পণ্য ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযান শেষে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ মালামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি টাকা। তবে অভিযানে প্রতিষ্ঠানের মূল অভিযুক্ত শাহাদত হোসেন শান্তু ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
Leave a Reply