ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লাগার পর তিন তলার কার্নিসে দাঁড়িয়ে প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশি পর্যটক সুমাইয়া আখতার ও তাঁর স্বামী রেজাউল ইসলাম। পরে দমকলকর্মীরা ল্যাডারের সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করেন।
সুমাইয়া আখতার বলেন, বেড়ানো ও কিছু কেনাকাটার জন্য স্বামী রেজাউল ইসলামের সঙ্গে ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল কয়েক দিন ঘুরে দেশে ফেরার। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে দুদিন আগে তিন তলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা।
সুমাইয়া বলেন, মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁর ঘুম আসছিল না। তিনি বিছানায় বসে মোবাইলে রিলস দেখছিলেন। হঠাৎ ঘরের দরজায় প্রচণ্ড জোরে ধাক্কার শব্দ শুনতে পান। এতে তাঁর স্বামী রেজাউলেরও ঘুম ভেঙে যায়।
দুজন দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান, পুরো বারান্দা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। চারপাশ থেকে ভেসে আসছিল ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন, হোটেলে আগুন লেগেছে।
সুমাইয়া জানান, বিপদের মুহূর্তেও তাঁর স্বামী মাথা ঠান্ডা রাখেন। মূল দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বিপদ আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি জানালা দিয়ে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জানালাটি দীর্ঘদিন খোলা হয়নি। তার ওপর তার দিয়ে পেঁচিয়ে সেটি আটকানো ছিল।
পরে কোনোভাবে সেই তার খুলে জানালা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। এরপর তিন তলার বাইরের কার্নিসে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। তাঁদের কক্ষটি রাস্তার দিকে থাকায় নিচ থেকে পথচারীরাও তাঁদের দেখতে পান।
সুমাইয়া বলেন, তাঁদের চিৎকার শুনে মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। পাশেই দমকল। আমরা খবর দিতে যাচ্ছি।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলের গাড়ি। এরপর দমকলকর্মীরা ল্যাডারের সাহায্যে তিন তলার বিপজ্জনক কার্নিস থেকে সুমাইয়া ও রেজাউলকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন।
সুমাইয়া বলেন, দমকলকর্মীরা সময়মতো না এলে তাঁদেরও হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো না। প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় দমকলকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তিনি কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।
Leave a Reply