ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় মৎস্য অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ ও পোনামাছ রক্ষায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের আমরিবুনিয়া ও মশাবুনিয়া গ্রামের বিভিন্ন ধানক্ষেত ও খালে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে কাঁঠালিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে একটি ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী মেজিস্ট্রেট সুমি রানী বল ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছের বংশবৃদ্ধি ধ্বংসকারী বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ জাল স্থাপনকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত চায়না দুয়ারী ও বেহুন্দি জালগুলো পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ মাঠে নিয়ে আসা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী মেজিস্ট্রেট সুমি রানী বল এর উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার মাধ্যমে জব্দকৃত সমস্ত অবৈধ চায়না দুয়ারী ও বেহুন্দি জাল আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসকৃত জালের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লক্ষাধিক টাকা।
অভিযান শেষে কাঁঠালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন, ”চায়না দুরারী ও বেহুন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ জালগুলো আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা ও ডিম্বাণু ধ্বংস করে দিচ্ছে। মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কাঁঠালিয়া উপজেলার নদীগুলোকে ক্ষতিকর জালমুক্ত করতে আমাদের এই বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্টের তৎপরতা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে স্থানীয় জেলে সমাজ ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
Leave a Reply