কুমিল্লার দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার বোর্ড খাতা মূল্যায়নের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) মো. বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে এই খাতা মূল্যায়ন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা মার্কিং করছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এটা একটা ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দেই, সেটা বাচ্চু স্যার দিত না হলে।” স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মেহেদী হাসানকে এভাবে খাতা মার্কিং করতে দেখা যায় এবং তখনই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এমন চরম গাফিলতির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দেবীদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শিক্ষা বোর্ড যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করবে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply