মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে টাঙ্গাইলের অর্ধশত পরিবার নি:শ্ব কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের মানবেতর জীবন যাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ১০২ বার

নামধারী দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার অর্ধশত পরিবার নি:শ্ব হয়ে গেছে। সেই সাথে জীবনের দৈন্যদশাকে ধুয়ে-মুছে আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সংসার উন্নতির স্বপ্ন নিয়ে কম্বোডিয়ায় পাড়ি দেয়া টাঙ্গাইল জেলার প্রবাসীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওইসব এলাকা ঘুরে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর, ভূয়াপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশত লোককে ‘‘বেশী টাকা বেতনে চাকুরি পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে’’ পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে কম্বোডিয়া পাড়ি দেয়া প্রবাসীরা এখন চাকুরি না পেয়ে বিদেশের মাঠিতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সেই সাথে অথের্র অভাবে গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাতসহ ঋণদাতাদের নির্যাতন নিপিড়নের শিকার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এমতাবস্থায় অনেকে আবার ঋণ করে দেশে ফিরে আসলেও অর্থ-সম্পদ হারিয়ে এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
আর এসবের পেছনে দালাল চক্রের মূলহোতা কম্বোডিয়া প্রবাসী ও টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুর থানার আগত্রিল্লা গ্রামের বাসিন্দা শামীম মিয়া ও তার সহযোগী প্রবাসী ও গোপালপুর থানার মাকুল্লা গ্রামের বাসিন্দা মো. সুজন মিয়া এবং সুজন মিয়ার আত্বীয় পরচিয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা আ: করিম সরাসরি জড়িত বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছে।
ভূক্তভোগীরা আরো জানান, আ: করিম ও সুজনের দেয়া মিথ্যা প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে কম্বোডিয়া প্রবাসি শামীম বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পর নিরীহ লোকজনকে হয়রানী করাই এই চক্রটির মূল কাজ।

ভূক্তভোগীরা ইতিমধ্যে দালাল চক্রের মূলহোতা ও কম্বোডিয়া প্রবাসী মো. শামীম, মো. সুজন মিয়া এবং এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আব্দুল করিমের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাদের এহেন কাজের বিচার চেয়ে এবং তাদের দেয়া অর্থ ফেরতের দাবী করেছে ভূক্তভোগী-ভূয়াপুর থানার আগত্রিল্লা গ্রামের মো. কামরুল, লিটন, গোপালপুর থানার মাকুল্লা গ্রামের বাসিন্দা সিফাত হোসেন, কবির হোসেনসহ একাধিক কম্বোডিয়া প্রবাসী ও তাদের পরিবারের লোকজন ।
জানা যায়, আব্দুল করিমের মাধ্যমে ২০ জন, সুজনের মাধ্যমে ১০ জন এবং শামীমের মাধ্যমে ১৭ জন লোককে কাজের জন্য কম্বোডিয়ায় জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পাঠানো হয়। কথা ছিলো কম্বোডিয়া নেয়ার পর তাদের ভিসা প্রসেসিং, ওয়ার্ক পারমিট, কাজ ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করবে এই দালাল চক্রটি। কিন্তু তা না করায় ওইসব কম্বোডিয়া প্রবাসিরা চরম কষ্টে আছে।

ভূক্তভোগীরা আরো জানান, দালাল চক্রের মূলহোতা শামীমের হয়ে আব্দুল করিম টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার অর্ধশতাধিক কম্ভোডিয়া প্রবাসী লোকজনের বাড়িতে গিয়ে তাদের বেশী টাকা বেতনে চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা এবং সেখানে পাঠানোসহ চাকুরি দেয়া পর্যন্ত জনপ্রতি খরচ বাবদ ৫ থেকে ৭ লাখ নেন। আমরা অনেকে ঋণ করে, কেউ জায়গা জমি বিক্রি করে আ: করিম ও সুজন মিয়াকে টাকা দেয়ার পর আব্দুল করিম জানায়, কম্বোডিয়া প্রবাসী তার বন্ধু মো: শামীম এবং করিমের ভাতিজা (দূ:সর্ম্পকের আত্বীয়) মো. সুজন আমাদেরকে কম্বোডিয়ায় রিসিভ করে চাকুরী এবং থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। কম্বোডিয়া যাওয়ার পর দালাল মো. শামীম ও সুজন আমাদের রিসিভ করলেও কোন ধরনের চাকুরির ব্যবস্থা করতে পারেননি। কারণ হিসেবে জানতে পারি, আমাদেরকে ‘ট্যুরিষ্ট’ ভিসায় পাঠানো হয়েছ্।ে সেখানে যাওয়ার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং সেখানকার সরকার পরিবর্তন হওয়ায় ভিসা নবায়ন বন্ধ করে দেয়া হয় এবং মূলহোতা দালাল শামীম ওই দেশ থেকে পালিয়ে যায়। তাছাড়া আ: করিম আমাদের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছেন সেই টাকার মধ্যে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা কম্বোডিয়া প্রবাসী মো. শামীম ও সুজনকে দেয়। বাকি টাকা করিম হাতিয়ে নেয়।
ভূক্তভোগীরা আরো জানান, আ: করিম এবং সুজন পরস্পর দূ:সম্পর্কের আত্বীয় হওয়ার সুবাধে এলাকায় নিজেদের রক্ষা করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্ভন করে কম্বোডিয়া প্রবাসী কয়েকজনকে বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা অপ-প্রচারের মাধ্যমে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তাদের মাধ্যমে যাওয়া কম্বোডিয়ার কোন প্রবাসী ছুটিতে বাংলাদেশে আসলে এই দালাল চক্রটি কৌশলে সেই প্রবাসীকে দিয়ে টাকা লেনদেন করেন এবং সেই লেনদেনের ভিডিও করে রাখেন এবং নিরীহ প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে টাকা লেনদেন করে এবং সেই তথ্য সংগ্রহে রেখে তাদের জিম্মি করে ফাঁসানোর পায়তারা করছে বলেও জানান অনেকে।
বিষয়টির তথ্যানুসন্ধানে গেলে একাধিক ভূক্তভোগী জানান, টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর থানার আগত্রিল্লা গ্রামের বাসিন্দা প্রতারক ও দালাল মো. শামীম এবং তার সহযোগী গোপালপুর থানাধীন মাকুল্লা গ্রামের আ: করিম অত্র এলাকার দালাল। তাদের নামে টাকা আত্বসাৎ ও প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। আ: করিম নিজেকে স্থানীয় সাবেক এমপি তানভির হাসানের এপিএস পরিচয়দাতা এবং বর্তমান কম্বোডিয়া প্রবাসী মো. ঈসমাইলের মামা পরিচয় দিয়ে বহু লোকজনকে বিদেশ নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নি:শ^ করে দিয়েছে।

বিষয়টি জানতে আ: করিম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শামীমের কথায় আমি কম্বোডিয়াগামী লোকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫/৬ লাখ টাকা নিয়ে শামীমকে দিয়েছি। এতে করে আমি জনপ্রতি আমার ১০/৩০ হাজার পেয়েছি। শামীম একজন চিহ্নিত দালাল ও প্রতারক আগে বুঝতে পারিনি। তার মাধ্যমে আমার আত্বীয়-স্ব্জনসহ এলাকার মোট ২০ জনকে কম্বোডিয়া পাঠিয়ে এখন চরম বিপদে আছি। আমি শামীমের নামে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এবিষয়ে কম্বোডিয়া প্রবাসি সুজন বলেন, আমি একজন ভূক্তভোগী শ্রমিক। আমি শামীমকে বিশ^াস করে, তার মাধ্যমে আমার আত্বীয়-স্বজন ১০ জনকে কম্বোডিয়া আনার পর এখন বিপদে আছি। শামীম কথা দিয়ে কথা রাখেনি। সে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে।
এ ব্যাপারে কম্বোডিয়া প্রবাসী মো. শামীম এর সাথে মুঠফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
কম্বোডিয়া প্রবাসী এপিএস মো. ঈসমাইলের মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, শামীম আমার পূর্ব পরিচিত এঁটা সত্যি। তার প্রয়োজনে এক সময় সে আমার কাছে আসা যাওয়া করতো। আ: করিম আমার চাচার শ্যালক, সেই সুবাধে তিনি আমার মামা। ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর করিম মামা এবং শামীমের সহযোগীতায় আমি কম্বোডিয়া এসেছি। কিছুদিন পর জানতে পারলাম, শামীম ও সুজন এলাকায় আমার নাম ব্যবহার করে এদেশে (কম্বোডিয়া) বহুলোক এনেছে। আসলে শামীম একজন প্রতারক। সে অনেককেই কম্বোডিয়িা এনে বিপদে ফেলে রেখেছে। আমিও তাদের শিকার।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories