বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়া বন্ধ করছে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৯ বার

আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি ভিসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি আফগান নাগরিকদের কাজের ভিসাও স্থগিত করা হচ্ছে। স্টাডি ভিসায় এসে আশ্রয় আবেদন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, স্টাডি ভিসায় এসে আশ্রয়ের আবেদন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চার দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ভিসায় ‘জরুরি ব্রেক’ আরোপ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আবেদন ৪৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, ‘যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে ব্রিটেন সবসময় আশ্রয় দেবে। তবে আমাদের ভিসা ব্যবস্থা অপব্যবহারের সুযোগ দেয়া যাবে না’। তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই আমাদের উদারতাকে কাজে লাগাতে চাওয়া ওই দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
এদিকে অভিবাসন ইস্যুটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। কট্টর ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে জনমত জরিপে এগিয়ে যাচ্ছে।
জনমতের চাপ কমানো এবং রিফর্ম ইউকে–এর উত্থান ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার আশ্রয় প্রক্রিয়া কঠোর করেছে এবং অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে।
প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বৃহস্পতিবার অভিবাসন বিধিতে পরিবর্তন এনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ কঠোরতর আশ্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই ইঙ্গিত দেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বিধানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি ৩০ মাস পরপর তাদের শরণার্থী মর্যাদা পুনর্বিবেচনার মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে দেশটিকে আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বারাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আবেদন ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও স্টাডি ভিসায় এসে আশ্রয়ের আবেদনকারীরা মোট আবেদনের ১৩ শতাংশ হওয়ায় আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories