জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পোষ্য কোটায় ভর্তি সম্পূর্ণরূপে বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রহসন’ করে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার নামে পুনরায় পোষ্য ভর্তি সুবিধা বহাল করেছে।
এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলা বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মহসিন আলী বলেন, আপনারা জানেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কত সীমিত। এখানে পড়া অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে অগ্রাধিকার না দিয়ে পোষ্য কোটার নামে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি জনের দুই থেকে তিনজন ছেলে-মেয়ে বা আত্মীয়-স্বজন এখানে পড়ছে। অথচ প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা হাজার চেষ্টা করেও এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এই প্রহসনমূলক কোটার কারণেই তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল বেলা ১১টার মধ্যে যদি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করব।
ইংরেজি বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, আমাদের একটাই দাবি- এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা বা কর্মজীবনে অন্যায্যতার বিরুদ্ধে আমরা শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে থাকব। কিন্তু সেই বিষয়কে হাতিয়ার বানিয়ে কেউ যদি মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক স্থানে বিশেষ সুবিধায় নিজের সন্তানকে ভর্তি করাতে চায়, তা আমরা মেনে নেব না।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখান থেকে এক চুলও নড়ব না। আগামীকাল বেলা ১১টার মধ্যে পোষ্য ভর্তি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত না করা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল।
Leave a Reply