ভারতের কলকাতায় এক তরুণীকে বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবার শমীক অধিকারী। অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) লিপুর আদালতে শমীক অধিকারীকে পেশ করা হলে সরকারি কৌঁসুলি জানান, অভিযুক্ত ওই তরুণীকে দিনের পর দিন বাড়িতে বন্দি করে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়।
আদালতে জানানো হয়, ভুক্তভোগীর শরীরজুড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চোখের নিচে কালশিটে দাগও স্পষ্ট। তরুণীর বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন।অন্যদিকে, অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন, শমীকের সঙ্গে ওই তরুণীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং যদি কোনো শারীরিক সম্পর্ক থেকেও থাকে, তা ছিল উভয়ের সম্মতিতে। তবে ভুক্তভোগীর শরীরে আঘাতের প্রমাণ থাকায় আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বেহালা থানায় তরুণী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি বন্ধুত্বের সূত্রে তিনি শমীকের বাড়িতে যান। সেখানে রাত সাড়ে ৯টা থেকে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ২০ ঘণ্টা তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এই সময়ে মারধর, ঘুষি মারা, শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে বৃহস্পতিবার রাতে শমীক অধিকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। শমীক অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত মুখ। ফেসবুকে তাঁর প্রায় ৩২ হাজার এবং ইনস্টাগ্রামে এক হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শমীক অধিকারী রাজ্য সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবেও পরিচিত। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক ভিডিও ও পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। তার গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি রাজনৈতিক রং নিতে শুরু করেছে। বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। যদিও পুরো বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন এবং তদন্ত চলছে।
Leave a Reply