বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ বার

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন দ্রুত বাড়ছে, ঠিক সেই সময় সামরিক উপস্থিতি আরও জোরালো করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বৃহৎ নৌবহর’ ইরানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর অঞ্চলটিতে আরও একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিমানবাহী রণতরী বহর, উন্নত যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে প্রয়োজনে তারা যেকোনও বিকল্প ব্যবহারে প্রস্তুত।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে পাঠানো যুদ্ধজাহাজটির নাম ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক। এটি আর্লি বার্ক শ্রেণির এজিস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে থাকা অন্য মার্কিন নৌযানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মারফি, ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন, ইউএসএস ম্যাকফল ও ইউএসএস মিচার। পাশাপাশি সেখানে রয়েছে লিটোরাল কমব্যাট শিপ ইউএসএস ক্যানবেরা, ইউএসএস তুলসা ও ইউএসএস সান্তা বারবারা।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় অঞ্চলটিতে সামরিক অবস্থান বদলে দ্রুত বিমানবাহী রণতরী বহর, উন্নত যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে পেন্টাগন।
এর আগে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানের দিকে একটি ‘বৃহৎ নৌবহর’ এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে বসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আসবে।
এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার জানান, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সব বিকল্প’ বিবেচনায় রাখতে প্রস্তুত। তবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনও রয়েছে।
এদিকে ইরানি সেনাবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ওপর কোনও হামলা হলে তার জবাব হবে ‘দ্রুত ও কঠোর’। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ বা ভুল হিসাবের জবাব তাৎক্ষণিক ও বাস্তব সময়েই দেয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার রাতে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আকরামি-নিয়া বলেন, শত্রুর পক্ষ থেকে কোনও বেপরোয়া বা অবিবেচক পদক্ষেপ নেয়া হলে ইরান সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, ১৯৭০-এর দশক থেকে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের তিনটি মূল কৌশল ছিল- কমিউনিজম ঠেকানো, পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা বজায় রাখা।
তিনি আরও জানান, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতিতে আংশিক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে তা ২০২৬ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই নথিতে আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেয়া হলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বহাল রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories