নরওয়েজিয়ান নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের কালজয়ী নাটক ‘হোয়েন উই ডেড এওয়েকেন’ এবার নতুন ব্যাখ্যা ও ভিন্ন নান্দনিকতায় মঞ্চস্থ হলো ঢাকায়। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে নাটকটি প্রযোজনা করেছে তরুণ নাট্যদল এক্টোম্যানিয়া। এটিই দলটির তৃতীয় প্রযোজনা।
গত ২৭ জানুয়ারি নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়েজিয়ান রাষ্ট্রদূত হ্যাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন।
হেনরিক ইবসেনের শেষ দিকের এই নাটকটি বাংলা ভাষায় রূপান্তর করেছেন শহীদুল মামুন। নির্দেশনায় আছেন নাট্যনির্দেশক নওরীন সাজ্জাদ। নাটকটি মঞ্চে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মূল ভাব বজায় রেখেই সমকালীন দর্শকের উপযোগী করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে এক্টোম্যানিয়া।
২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই নাট্যদল শুরু থেকেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী নাট্যচর্চায় মনোযোগী। দলটির সদস্যদের মতে, দর্শককে ভাবনায় নাড়া দেয়া এবং নাটকের ভেতর দিয়ে দর্শনের প্রশ্ন তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। ‘হোয়েন উই ডেড এওয়েকেন’ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
নাটকটি মূলত মানুষের মুক্তি অনুসন্ধানের গল্প বলে। শিল্পসৃষ্টি ও মানবসম্পর্ক এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব, একাকিত্ব ও আত্মঅনুসন্ধানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে নাটকে। কেউ শিল্পের মাধ্যমে মুক্তি খোঁজে, আবার কেউ মানবসম্পর্কের উষ্ণতায় মুক্তি পেতে চায় এই দ্বৈত টানাপোড়েনই নাটকের মূল উপজীব্য।
মঞ্চে নাটকের চরিত্রগুলো জীবনের অপূর্ণতা, অনুশোচনা ও আত্মসমালোচনার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায়। ইবসেনের দর্শন অনুযায়ী, জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মানুষ যখন নিজের অতীতের দিকে ফিরে তাকায়, তখন সে বুঝতে পারে আসলে কী হারিয়েছে এবং কী পেয়েছে।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কামরুজ্জামান তাপু, এমএইচএস লাবন, নওরীন সাজ্জাদ, মার্শিয়া শাওন, সাগর বড়ুয়া শান, ফকির বিপ্লব, মারজুক আল হাসান, প্রথমা রহমান ও সানভি মীর চৌধুরী। পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন রাজন আরিফ, দিবাকর মণ্ডল জিতু, শাহরিয়ার ইউসুফ ও অভিজিৎ সাহা রুদ্র। সমন্বিত অভিনয়, সংলাপের গভীরতা ও চরিত্র নির্মাণে অভিনেতাদের পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মঞ্চসজ্জা, আলো ও আবহসংগীত নাটকের ভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহৃত হয়েছে, যা পুরো প্রযোজনাটিকে একটি শিল্পসম্মত রূপ দিয়েছে। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের মতে, ইবসেনের এই দার্শনিক নাটকটি ঢাকার মঞ্চে সফলভাবেই উপস্থাপন করতে পেরেছে এক্টোম্যানিয়া।
Leave a Reply