বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে বিএনপির লোকেরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কোনো ব্যক্তি বা দলের মব সৃষ্টি করার এখতিয়ার নেই, আমরা এই নোংরা মবের নিন্দা জানাই। আমরা দেখতে চাই, মব যেন এখানেই শেষ হয়। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন, মব সন্ত্রাস করে জনগণের মত প্রভাবিত করার দিন শেষ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে মিরপুরে বিএনপির আমলায় আহত জামায়াত নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, তারা গত (মঙ্গলবার) শুধু ভাইদের গায়ে নয়, আমাদের মা-বোনদের গায়েও হাত তুলেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ওরা কি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়নি? তাদের ঘরে কি মা-বোন নেই? আমরা আর এ ধরনের নোংরা অবস্থা দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, সবাই জনগণের কাছে নিজের মতো অঙ্গীকার ও কার্যক্রম নিয়ে যাবে, জনগণ তাদের অতীত-বর্তমান চিন্তা করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের অঙ্গীকার একেবারেই স্পষ্ট-আমরা ন্যায়, ইনসাফ ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন চাই। আমি ৩০০ আসনের প্রার্থীদের অনুরোধ করব-দয়া করে মানুষকে স্বাধীনভাবে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনই যদি সেই সাড়ে ১৫ বছরের কায়দায় নির্বাচনী ময়দানকে ওলটপালট করে দেওয়া হয়, তাহলে জাগ্রত যুব সমাজ কাউকে ক্ষমা করবে না। কারণ তারাই তো বুকের রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে। আমরা দেশবাসী সঙ্গে ছিলাম, ওরাই (যুব সমাজ) নেতৃত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’ কায়দায় যদি কেউ ভোটের মাঠে নামেন তাহলে যুবসমাজ ভোটের মাধ্যমে ব্যালটের মাধ্যমে সমুচিত জবাব দেবে। সুতরাং আসুন শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থেকে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করি। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী অঙ্গীকারবদ্ধ।
নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু ঢাকা-১৫ আসনে নয়, এখানে-ওখানে টুকটাক শুনতে পাচ্ছি। আপনারা (নির্বাচন কমিশন) যে অঙ্গীকার নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে, আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। সবার জন্য সমতল মাঠ অবশ্যই দিতে হবে। যারাই সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনা করবে তাদের মুখের দিকে না তাকিয়ে দায়িত্ব ও আইনের দিকে তাকিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। আমরা এখনই মামলা-মোকদ্দমার দিকে যাচ্ছি না, এটা সমাধানও নয়। তবে আমাদের বাধ্য করবেন না। আমরা সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এসবের মোকাবিলা করব।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, মায়েদের গায়ে হাত দিল, মসজিদের ভেতর ঢুকে অপমান-গালাগল করল, মানুষের মোবাইলগুলো কেড়ে নিল আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। তাহলে কি ভাবে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন?
জামায়াত আমির বলেন, আমরা আর এর পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। আমরা চাই যার যার যে নাগরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সেটি পালন করবেন। আমরা কথা দিচ্ছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব কিছু দিয়ে সহযোগিতা করব ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply