শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই সৌদি আরব যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় প্রয়োজনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ অটোরিকশা চালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন : পুলিশ তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক: জামায়াত আমির বিক্ষোভ দমনে নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, প্রস্তুত ১২ বন্দিশিবির পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অভিজিৎসহ ‘তেলাপোকা পার্টির’ শীর্ষ তিন নেতা

উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডের সময় ছাদে তালা দেয়া থাকায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৬ বার

রাজধানী ঢাকার উত্তরাস্থ বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ছাদে তালা দেয়া থাকায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা উত্তরাবাসী।
এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছাদে তালা থাকায় কেউ আত্মরক্ষা করতে পারেননি। ছাদের দরজা খোলা থাকলে এতগুলো নারী পুরুষ শুশু হতাহতের ঘটনা ঘটতো না।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নং সেক্টর, ১৮ নম্বর রোডে ৩৪ নং বাড়ির ৭তলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত দ্বিতীয় তলায়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক ইউনিট আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
নিহতরা হলেন- ফাজলে রাব্বি (৩৮), হারিস (৫২), রহাব (১৭), রোদেলা আক্তার (১৪), আফসানা এবং প্রায় আড়াই বছর বয়সী শিশু রিসান। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে ফাজলে রাব্বি, হারিস ও রহাবকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তারা মারা যান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া রোদেলা আক্তার, আফসানা ও শিশু রিসানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসকরা জানান, অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়া ও দগ্ধ হওয়ার কারণে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘন ধোঁয়া ও আগুনে নিচের পথও বন্ধ হয়ে গেলে ছাদই হতে পারত শেষ আশ্রয়। কিন্তু ছাদের দরজায় তালা দেয়া থাকায় কেউ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেননি। এ ঘটনার দায় বাড়ির মালিক এড়াতে পারেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির এক বাসিন্দা বলেন, ছাদ খোলা থাকলে হয়তো হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতো।
স্থানীয়দের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত, যাতে কোনো আবাসিক ভবনের ছাদে তালা দেওয়া না হয়, জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ না হয় এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হয়।
উত্তরা ১১ নং সেক্টর ২০ নম্বর রোডের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন, বাড়িওয়ালারা তাদের স্বার্থে ভাড়া বা নিরাপত্তার কথা ভাবেন না। আজ অনেক প্রাণ গেল। এমন অবহেলা আইনের আওতায় আনা উচিত।
এমন ঘটনায় শুধু একটি ভবনের নয়, রাজধানীর অসংখ্য আবাসিক ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আহাজারি এবং ক্ষোভ প্রশ্ন তুলছে-এই মৃত্যু কি শুধুই আগুনের, নাকি অবহেলারও ?

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories