সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগরের ৪৮ নং ওয়ার্ডে মাদকের আখড়ায় জনতার আগুন ও ময়লা আবর্জনার জনসচেতনতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর আহ্বান অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ রোহিঙ্গা সংকট ২০ বছরে গড়াতে দেওয়া যাবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশিসহ ২২ জন নিখোঁজ রংপুরে চার খুনের পর স্বর্ণ লুট, বাড়িতেই গোসল করে ইয়াবা সেবন রংপুরে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ পরিবারের চারজনকে হত্যা ॥ দুই যুবক গ্রেপ্তার

উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডের সময় ছাদে তালা দেয়া থাকায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৮ বার

রাজধানী ঢাকার উত্তরাস্থ বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ছাদে তালা দেয়া থাকায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা উত্তরাবাসী।
এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছাদে তালা থাকায় কেউ আত্মরক্ষা করতে পারেননি। ছাদের দরজা খোলা থাকলে এতগুলো নারী পুরুষ শুশু হতাহতের ঘটনা ঘটতো না।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নং সেক্টর, ১৮ নম্বর রোডে ৩৪ নং বাড়ির ৭তলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত দ্বিতীয় তলায়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক ইউনিট আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
নিহতরা হলেন- ফাজলে রাব্বি (৩৮), হারিস (৫২), রহাব (১৭), রোদেলা আক্তার (১৪), আফসানা এবং প্রায় আড়াই বছর বয়সী শিশু রিসান। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে ফাজলে রাব্বি, হারিস ও রহাবকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তারা মারা যান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া রোদেলা আক্তার, আফসানা ও শিশু রিসানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসকরা জানান, অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়া ও দগ্ধ হওয়ার কারণে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘন ধোঁয়া ও আগুনে নিচের পথও বন্ধ হয়ে গেলে ছাদই হতে পারত শেষ আশ্রয়। কিন্তু ছাদের দরজায় তালা দেয়া থাকায় কেউ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেননি। এ ঘটনার দায় বাড়ির মালিক এড়াতে পারেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির এক বাসিন্দা বলেন, ছাদ খোলা থাকলে হয়তো হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতো।
স্থানীয়দের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত, যাতে কোনো আবাসিক ভবনের ছাদে তালা দেওয়া না হয়, জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ না হয় এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হয়।
উত্তরা ১১ নং সেক্টর ২০ নম্বর রোডের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন, বাড়িওয়ালারা তাদের স্বার্থে ভাড়া বা নিরাপত্তার কথা ভাবেন না। আজ অনেক প্রাণ গেল। এমন অবহেলা আইনের আওতায় আনা উচিত।
এমন ঘটনায় শুধু একটি ভবনের নয়, রাজধানীর অসংখ্য আবাসিক ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আহাজারি এবং ক্ষোভ প্রশ্ন তুলছে-এই মৃত্যু কি শুধুই আগুনের, নাকি অবহেলারও ?

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories