পোস্টের নিচে সারি সারি হ্যাশট্যাগ এই দৃশ্য এখন ইনস্টাগ্রামে ইতিহাস হতে চলেছে। কনটেন্টের চেয়ে হ্যাশট্যাগই যদি বেশি চোখে পড়ে, তবে এবার সতর্ক হওয়ার সময়। ভিউ আর রিচ বাড়ানোর নামে অতিরিক্ত হ্যাশট্যাগ ব্যবহারে ইতি টানতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনস্টাগ্রাম।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায়, পোস্ট বা রিলে ব্যবহৃত হ্যাশট্যাগের সংখ্যা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম। মেটা মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্ম জানায়, এখন থেকে প্রতিটি পোস্ট ও রিলে সর্বোচ্চ পাঁচটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা যাবে। ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি এক ঘোষণায় জানান, অনেক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলেই যে কনটেন্টের রিচ বাড়েএমন ধারণা সঠিক নয়। বরং কম কিন্তু প্রাসঙ্গিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে কনটেন্ট সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ইনস্টাগ্রাম বলছে, নতুন এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো হ্যাশট্যাগের অপব্যবহার ঠেকানো এবং কৃত্রিমভাবে রিচ বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোর প্রবণতা কমানো। কারণ অনেক ব্যবহারকারী #reels বা #explore-এর মতো অতিরিক্ত সাধারণ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যা বাস্তবে পোস্টের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না উল্টো অনেক সময় রিচ কমিয়েও দিতে পারে।
মেটা মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্ম জানায়, এখন থেকে প্রতিটি পোস্ট ও রিলে সর্বোচ্চ পাঁচটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা যাবে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
মেটা মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্ম জানায়, এখন থেকে প্রতিটি পোস্ট ও রিলে সর্বোচ্চ পাঁচটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা যাবে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
২০১১ সালে ইনস্টাগ্রামে হ্যাশট্যাগ ফিচার চালু হওয়ার পর এটি কনটেন্ট খোঁজা ও নির্দিষ্ট দর্শকের কাছে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। আগে একটি পোস্টে সর্বোচ্চ ৩০টি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা যেত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধার অপব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নীতিতে পরিবর্তন আনছে প্ল্যাটফর্মটি।
ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে ইনস্টাগ্রাম জানিয়েছে, কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর। যেমন, বিউটি–সংক্রান্ত কনটেন্টে বিউটি–সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে সেই বিষয়টিতে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়।
এর আগে ইনস্টাগ্রামের সহযোগী প্ল্যাটফর্ম থ্রেডসেও ট্যাগ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, যেখানে প্রতিটি পোস্টে একটি ট্যাগ ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটিভিত্তিক কনটেন্টকে উৎসাহিত করা এবং ‘এনগেজমেন্ট হ্যাকিং’ কমানোই মূল লক্ষ্য।
Leave a Reply