মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে মুক্তিকামী ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে ৭ ডিসেম্বর এই অঞ্চলকে হানাদারমুক্ত করেন।
বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, ৫ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী তিন দিক থেকে হালুয়াঘাটে হানাদার বাহিনীর উপর আক্রমণ চালায়। ৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে চলা টানা আক্রমণে ভারতীয় বিমানবাহিনীর চারটি যুদ্ধ বিমানের বোমাবর্ষণে পাকিস্তানি বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা হালুয়াঘাট দখল করেন এবং শত্রুমুক্ত জনপদে বিজয়ের পতাকা উড়াতে শুরু করেন। হানদারমুক্ত হালুয়াঘাটের সর্বস্তরের মানুষ তখনই ফেটে পড়ে আনন্দ-উল্লাস। গ্রাম থেকে গ্রাম, জনপদ থেকে জনপদে প্রতিধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি। স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাসে সাধারণ মানুষ বিজয়ের মিছিলে শামিল হয়ে সেদিন উদযাপন করেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৭ ডিসেম্বরের এই দিনে তৎকালীন সিও রেভিনিউ (ভূমি অফিস) মাঠে হালুয়াঘাট থানা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সীমান্তবন্ধু কুদ্রত উল্লাহ মন্ডল (এমপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং হালুয়াঘাটকে ‘মুক্তাঞ্চল’ ঘোষণা করেন। ফলে দিনটি গর্ব, ত্যাগ, বীরত্ব ও মুক্তির এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, হালুয়াঘাট পৌরসভা,জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্কুল কলেজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যেদিয়ে ৭ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস উদযাপন করেন। এ উপলক্ষে এদিন সকালে হালুয়াঘাট মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে মালঞ্চ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালী,ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিজয় র্যালীটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে (কোর্ট ভবন) এসে শেষ হয়। পরে হালুয়াঘাট উপজেলা কনফারেন্স রুমে এক স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান সভাপতিত্বে অনুষ্টানে উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন, সহকারী কমিশনার ভূমি জন্নাত, ওসি তদন্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ আলী , উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুলসহ বীর মুক্তিযোদ্ধ বৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কমান্ড, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
Leave a Reply