বাংলাদেশ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএসপিএসটি) আয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে সংগঠনটির চতুর্থ জাতীয় সম্মেলন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) থেকে রোববার (৩০ নভেম্বর) পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
এবছরের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই কৃষির জন্য প্লান্ট সায়েন্স’। শনিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএসটি’র সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাকৃবির ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিতে লবণাক্ততা, খরা, জলাবদ্ধতা ও উচ্চ তাপমাত্রার মতো চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে উদ্ভিদের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় ও অপ্রচলিত ফসলের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জন্মানো স্থানীয় উদ্ভিদগুলো নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা সহনশীল উদ্ভিদ কিংবা খরা অঞ্চলের পানি সংরক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন ফসল—এসবই জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনে সম্ভাবনার নতুন পথ তৈরি করতে পারে।
ড. ফকির তাঁর প্রবন্ধে কাসাভা (শিমুল আলু), অড়হর, রোজেলার (চুকাই) মতো অপ্রচলিত খাদ্যশস্যের কথা উল্লেখ করেন। এসব উদ্ভিদ স্বল্প সম্পদে উৎপাদন সম্ভব এবং পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ, যা ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘উদ্ভিদের বৈচিত্র্য আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার শক্তিশালী অস্ত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা স্থানীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করতে পারলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার সহায়তা আরও দৃঢ় হবে। উদ্ভিদের ভেতরের বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে হবে, গবেষণা বাড়াতে হবে।’
বিএসপিএসটি’র সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাসেত মিয়া জানান, সম্মেলনে মোট ১২৭টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ৫৭টি মৌখিক এবং ৭০টি পোস্টার উপস্থাপনা। উদ্ভিদবিজ্ঞান, শারীরবৃত্ত, অঙ্গসংস্থান, জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা ও সমসাময়িক কৃষি উদ্ভাবনসহ ১০টি থিমেটিক বিষয়ের ওপর এসব প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।
সম্মেলনের প্রথম দিন শেষে বিকেলে মৌখিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার দিনব্যাপী চলবে পোস্টার ও মৌখিক উপস্থাপনা। প্রতিটি সেশনের সেরা উপস্থাপককে সম্মাননা দেয়া হবে।
Leave a Reply