গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত যুবকের নাম মারুফ (২৩)। তিনি মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া তারগাছ এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। আহত যুবকের নাম জামিল (২৫)। তিনি একই এলাকার আতাউল্লাহর ছেলে। তারা পরস্পর বন্ধু বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে গাছা থানাধীন ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুনিয়া তারগাছ এলাকার আক্তারের বাড়ির সামনে এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ আরও ৪-৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। এসময় দোকানে ক্রেতা জামিল কিশোর গ্যাং সদস্যদের বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদ করলে জামিলের সঙ্গে রবির বাগবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এসময় উভয়পক্ষের বাকবিতন্ডা থামাতে জামিলের বন্ধু মারুফ ঘটনাস্থলে যায়। তখন কিশোর গ্যাং সদস্যরা দুজনের ওপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে রবি ও তার সহযোগীরা দুই বন্ধুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে তারগাছস্থ তারুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মারুফকে মৃত ঘোষণা করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জামিলকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আহত জামিলের জবানবন্ধী অনুযায়ী পুলিশ জানায়, রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ ৮–১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।
আহত জামিলের বাবা আতাউল্লাহ জানান, এলাকায় সম্প্রতি চুরি ছিনকাই এবং কিশোরগ্যাং সদস্যদের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্ভে গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সোমবার রাকের ঘটনায় স্থানীয় থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে। আমরা মারুফ হত্যা এবং জামিলকে হত্যার চেষ্টার বিচার চাই।
নিহত মারুফের শোকাহত বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ছেলে মারুফ হত্যাসহ তার বন্ধু জামিলকে ছোরাকাঘাত করে আহত করার সাথে জড়িত কিশোরগ্যাং ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যদের শাস্তিমূলক বিচার চাই। শুনেছি ইতিমধ্যে মামলার প্রধান আসামী রবিউল ইসলাম ওরফে সিগমা রবি এবং সাব্বির হোসেন নামে দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আশা করছি বাকীরাও খুব দ্রুত গ্রেফতার হবে। মারুফের লাশ দাফনের জন্য তাজউদ্দিন মেডিকেলের মর্গ থেকে বাড়িতে আনা হয়েছে।
জিএমপির গাছা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, আহত জামিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
জিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান জানান, মারুফ হত্যাকান্ডে গাছা থানায় মামলা হয়েছে। এজাহার নামীয় ২ নং আসামী আসামী মোঃ সাব্বির হোসেন (১৮) কে গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া মামলার প্রধান আসামী মোঃ রবিউল ইসলাম ওরফে সিগমা রবি (২৪) কে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিম পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানা এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত এবং অন্য আসামীদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলমান আছে।
Leave a Reply