নীলফামারীতে গার্মেন্টস কর্মী এক কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য মাত্র ৮৫ হাজার টাকা। আর এটা নির্ধারণ করে দিয়েছেন স্থানীয় মাতব্বররা। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক করে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গর্ভপাতের অভিযোগ থেকে ভুক্তভোগীর প্রেমিককে বাঁচাতেই তারা এ লেনদেন করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের সরকার পাড়া এলাকায়।
জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরী গার্মেন্টস কর্মীকে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে প্রেমিক আজাদ। এতে অন্তঃসত্ত্বা হলে আবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার পেটের সন্তান নষ্ট করতে ওষুধ খাওয়ান তিনি। ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। পরে ২২ জুলাই প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইদিন চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফিরে যান ভুক্তভোগী কিশোরী।
ভুক্তভোগী বলেন, আজাদ আমাকে বাড়ির পাশের ডেকে নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক করে। এতে আমি অন্তঃসত্ত্বা হলে সে আমাকে বলে- এটা অবৈধ সন্তান, এটাকে নষ্ট করে আমাকে বিয়ে করবে। এরপর আজাদের দেওয়া ওষুধ খেয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার পরিবার ন্যায় বিচারের জন্য মাতব্বরদের কাছে যায়। মাতব্বররা আজাদকে বাঁচাতে রাতের আঁধারে ৮৫ হাজার টাকায় সব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে।
ওই কিশোরীর চাচা বলেন, আমরা গরীব মানুষ, টাকা-পয়সা নেই। এ কারণে কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না। মাতব্বরদের পরামর্শে ৮৫ হাজার টাকায় মীমাংসা করেছি। আমাদের কোনো দাবি-দাওয়া নেই।
Leave a Reply