বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ নতুন রেকর্ড গড়েছে। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৩৮ ট্রিলিয়ন ১৯ বিলিয়ন ৮১৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। সরকারি ব্যয় ও রাজস্ব ঘাটতির দ্রুত সম্প্রসারণের কারণেই এই বিপুল ঋণ বৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের গড় ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ডলার। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ এখন চীন, ভারত, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির সম্মিলিত মূল্যের সমান।
পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের সিইও মাইকেল এ পিটারসন বলেন, ‘মার্কিন আইন প্রণেতারা তাদের “মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব” পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ঋণ এবং বাজেটের ওপর ট্রিলিয়নের সাথে ট্রিলিয়ন যোগ করা আমেরিকার মতো একটি মহান জাতির জন্য কোনো উপায় নয়।’
ঋণের সময়কাল আরও বেশি করে চলতে দেওয়ার পরিবর্তে, আইন প্রণেতাদের এমন অনেক দায়িত্বশীল সংস্কারের সুযোগ নেওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। এমনটি হলে জাতিকে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী পথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
মাত্র দুই মাস আগেও যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছিল ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এটি ছিল ৩৬ ট্রিলিয়ন এবং সেই বছরের জুলাইয়ে ছিল ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ঋণের ঘড়ির কাঁটা আশঙ্কাজনকভাবে দ্রুত ঘুরছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঋণ বৃদ্ধির ধারা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। ২০২৩ সালের পেন ওয়ারটন বাজেট মডেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজার তা সহ্য করতে পারবে না।
মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস অনুমান করেছে, বর্তমান নীতির ধারাবাহিকতায় ২০৪৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ জিডিপির ২০০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’, যার আওতায় কর ছাড়ের নীতি চালু করা হয়।
Leave a Reply