টঙ্গীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. শামীমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী মোসাঃ শিরীনা বেগম (৩৪) বুধবার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শামীম (৩৫) ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার শালিয়া উপজেলার কাইচাপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরের দারাইল বটতলা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন।
অভিযোগে শিরীনা বেগম উল্লেখ করেন, পাঁচ বছর আগে ইসলামিক শরিয়া মোতাবেক শামীমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী পুত্র সন্তান মো. মুসছালিম রয়েছে।
বিবাহের পর থেকেই স্বামী সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করেন এবং প্রায়ই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। ব্যবসার কথা বলে শামীম নিয়মিত মোটা অংকের টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে শিরীনা বেগম কিস্তি করে ৫০ হাজার টাকা এনে স্বামীকে দেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, শামীম গোপনে তার পূর্বের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও তাকে মারধর করেন।
শিরীনা বেগম অভিযোগে আরও বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সামান্য বিষয় নিয়ে শামীম তাকে নির্যাতন করে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে চলে যান। পরে স্ত্রীকে জানায়, আবার সংসার করতে চাইলে ২ লাখ টাকা যৌতুক দিতে হবে, নইলে তালাক দেওয়া হবে। টাকা না দিলে তাকে তালাক দেয়ারও হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর ভাই মো. আলতাফ হোসেন বলেন, শামীম এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছে। আমার বোন তার তৃতীয় স্ত্রী। বিয়ের আগে সে জানিয়েছিল আগের স্ত্রীদের তালাক দিয়েছে এবং কাগজও দেখায়। কিন্তু পরে সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আবার গোপনে বিয়ে করে। আমার বোনকে নিয়মিত মারধর করে টাকা দাবি করে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply