এবার টঙ্গীতে অল্পের জন্য বেঁচে গেলো শতাধিক মানুষের প্রাণ। রাজধানী ঢাকার নিমতলী কেমিক্যাল গোডাউনের ন্যায় টঙ্গীর বিসিক সাহারা মার্কেটে ঈসমাইল হোসেনের ফেমাস ক্যামিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ডে তিন ফায়ার ফাইটারসহ এক যুবক অগ্নিদদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণসহ অপর দুই জন আহত হওয়ার পর উত্তর আরিচপুর হাফিজ উদ্দিন বেপারী রোড, সাতরং গেইট ও সমবায় বিপনীসহ আশপাশের আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা কেমিক্যাল মার্কেট ও গোডাউনগুলো এলাকাবাসীর জন্য এক আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের দাবী, ২০১০ সালের ৩ জুন রাজধানী ঢাকার নিমতলীতে কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বিপুল পরিমান মানব-সম্পদ হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্থের পর গত ২০২১ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে উত্তর আরিচপুর হাফিজ উদ্দিন বেপারী রোডের অঅবাসিক এলাকায় স্থাপিত ক্যামিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকান্ডে গোডাউন মালিকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যদিও সে সময় মানব সম্পদের কোন ক্ষতি হয়নি কিন্তু সে সময় এই ক্যামিক্যাল কারখানা ও গোডাউনকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতংক এবং প্রায় ভাড়াটিয়া শুন্য হয়ে পড়েছিলো অত্র এলাকায়। এ বছর ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং সোমবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় টঙ্গীর সাহারা মার্কেটে ঘটতে যাচ্ছিল সেই নিমতলী ট্রাজেডির মত একই ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার ওইসব ক্যামক্যিাল কারখানা, গোডাউন বা মার্কেট জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোন ফল পায়নি এমন অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর।
এদিকে মার্কেট বা বাসাবাড়ির মালিক পক্ষ বলছে, ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী ক্যামিক্যাল ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছে না বরং সরকারী বা স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের অনুমতিহীন এমন কি কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আবাসিক এলাকাসহ স্থানীয় সমবায় কমপ্লেক্স মার্কেটের নীচতলায় প্রায় শতাধিক কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার শীর্ষ স্থানীয় ৪/৫ জন এক্সপোর্ট ব্যবসায়ীও রয়েছে।
আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, টঙ্গীর হাফিজ উদ্দিন বেপারী রোড, গাজীবাড়ি বা উত্তর আরিচপুর সমবায় কমপ্লেক্সের আশেপাশ এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষে বসবাস। তথাপিও এসব কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা অত্র এলাকায় তাদের অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাসাবাড়ি, গোডাউন বা দোকান ভাড়া নিয়ে কেমিক্যাল তৈরি ও মজুদ রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনায়াসে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং সোমবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় টায় বিসিক মোড় সাহারা মার্কেটে ফেমাস ক্যামিক্যাল গোডাউনে বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত হয়। মূহুর্তের মধ্যে আগুন ওই গোডাউনসহ অপর আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় ব্যাপক আতংকের সৃষ্টি হয় এবং এলাকার নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বর্ণিতা, শিশু-কিশোর মূহুর্তের মধ্যে যার যার বাসাবাড়ি ও দোকানপাট তালাবদ্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে।
জানা যায়, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ উক্ত কেমিক্যাল গোডাউনের পাশেই ছিলো শহীদের তেলের দোকান ও আরেকটি গোডাউন। যেখানে বিপুল পরিমান ধার্য-পদার্থ ও তেল মজুদ ছিলো। স্থানীয় লোকজন এবং ফায়ার সার্ভিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পায়, সেই সাথে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের হাত থেকে রক্ষা পায় এলাকাবাসী। কিন্তু ৪ জন ফায়ার ফাইটার ও একজন পথচারী সেই আগুনে গুরতর আহত হয়। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে ফায়ার ফাইটার শামীম আহম্মেদ, নুরুল হুদা, খন্দকার জান্নাতুল নাঈম এবং পথচারী বাবু আহম্মেদ রাজধানীর বার্ণ সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এছাড়াও সমবায় বিপনীর নীচতলায় কেমিক্যাল মার্কেট, বয়লার ও দ্বিতীয় তলায় ব্যবসায়ীদের অফিস ও মসজিদ এবং তৃতীয় তলায় একটি গার্মেন্টস যেখানে প্রায় ৫শ শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরো প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী কাজ করে প্রতিদিন এবং দক্ষিনে ও পশ্চিমে দেয়াল ঘেঁেষ আবাসিক বাসা-বাড়ি রয়েছে। ওইসব বাসা-বাড়িতে কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিপনের ফারিয়া ট্রেডাস, আল-আমিনের মা এন্টারপ্রাইজ, বখতিয়ারের ও বাবুর ক্যামিক্যাল গোডাউন রয়েছে। এছাড়াও সমবায় কমপ্লেক্সের নীচতলায় কেমিক্যাল ব্যবসায়ী সিরাজের আই এম কেমিক্যাল, কেমিক্যাল এক্সপোর্ট ব্যবসায়ী জাফরের পদ্ধা কেমিক্যাল লিঃ, ইউনুছের সাফিয়া কেমিক্যাল, ইলিয়াসের শান্তা কেমিক্যাল. ফিরোজ মিয়ার ফিরোজ কেমিক্যাল, শামীমের যমুনা কেমিক্যাল, এনামুলের রুপসা কেমিক্যাল, রাসেলের রাজিব এন্টারপ্রাইজ, শাহাবুদ্দিনের এস এস এন্টারপ্রাইজ, নজরুলের সেভেন স্টার, জলিলের আল-মদিনা, রিপনের ফারিয়া ট্রেডাস, আল-আমিনের মা এন্টারপ্রাইজসহ প্রায় ৫০ টির অধিক কেমিক্যাল শো-রুম ও গোডাউন ও কারখানা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী, অবিলম্বে এসব কেমিক্যাল কারখানা বা গোডাউন সমবায় বিপনী মার্কেটসহ হাফিজ উদ্দিন বেপারী রোডের আবাসিক বাসাবাড়ি থেকে সরিয়ে নেয়া জরুরী। নয়তো রাজধানী ঢাকার নিমতলী কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হবে টঙ্গীবাসী।
এবিষয়ে সমবায় কমপ্লেক্স মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীরা শনিবার বসে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা থাকলেও তা করতে পারেনি বলে জানান মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক। তবে দু-একদিনের মধ্যে সকল ক্যামিক্যাল ব্যবসায়ীরা বসে জড়ালো সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন তিনি।
Leave a Reply