কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নতুন দুইটি বিভাগ খোলার অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ আট বছরেও সেগুলো চালু করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি একটি বিভাগের অনুমোদন বাতিল এবং অপরটির আংশিক নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কুবির বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ চালুর অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বছরেরই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে অবকাঠামোগত সংকট ও শ্রেণিকক্ষের অভাবের কারণে বিভাগ দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বলা হয়, নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মিত হলে বিভাগগুলো খোলা হবে। কিন্তু এর মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি।
তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে ৩১টি বিভাগের উল্লেখ থাকলেও এই দুই বিভাগ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ কারণে পরবর্তীতে চালুর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সঙ্গে বৈঠক করলে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
জকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, নির্বাচন ২৭ নভেম্বর
ইউজিসি জানায়, যেহেতু পূর্বের অর্গানোগ্রামে বিভাগগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তাই নতুন অর্গানোগ্রামে সম্ভাব্য নতুন বিভাগগুলোর তালিকা প্রস্তাব করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত কুবির ৮৯তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল মিটিংয়ে নতুন করে অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির জন্য ১৮টি নতুন বিভাগের নাম প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে পূর্ব অনুমোদিত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এর পরিবর্তে প্রস্তাব করা হয়েছে লজিস্টিক্স ও মার্চেন্ডাইজিং বিভাগ। আর বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এর পরিবর্তে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ।
বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ চালুর প্রস্তাবকারী রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, ‘২০১৭ সালের দিকে দুইটি বিভাগ চালুর অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে বিভাগগুলো চালু করা যায়নি। নতুন ভবন হলে চালুর কথা ছিল। কিন্তু দুই প্রশাসন পরিবর্তন হলেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ‘অর্গানোগ্রামভুক্ত না হলেও যেহেতু অনুমোদন ছিল, তখন চালু করা যেত। জায়গা সংকটের কারণে সম্ভব হয়নি। পরে আর প্রশাসন উদ্যোগ নেয়নি। এখন ইউজিসির নির্দেশনায় নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে অন্তর্ভুক্ত মানেই চালু নয়। অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘তৎকালীন প্রশাসন বলতে পারবে কেন বিভাগগুলো চালু হয়নি। আমরা এখন ইউজিসির নির্দেশনায় সবার সাথে আলোচনা করে নতুন উদ্যোগ নিয়েছি। এখনই কোনো বিভাগ চালু হচ্ছে না, প্রক্রিয়াধীন থাকবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা নতুন বিভাগ চালু করতে পারব বলে আশা করছি। ততদিনে নতুন ক্যাম্পাসও কার্যক্রমে আসবে।
Leave a Reply