২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার পাশে গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামায়াতের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘটিত নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সচেতন আইনজীবী পরিষদ ঢাকা ও ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সচেতন আইনজীবী পরিষদ ঢাকার যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মতিন উদ্দিন আনোয়ার।
আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন, মুফতি আমানুল হক, মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ, বেলাল হোসেন ও হাবিবুল্লাহ রায়হান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত ঘটনাগুলো ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা পুরো দেশের শান্তিকামী মুসলিম সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় বহু আলেম-ওলামা, তাবলিগের মেহনতি কর্মী এবং সাধারণ মুসল্লি গুরুতর আহত হন অথচ দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো চার্জশিট দাখিল হয়নি, বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি।
তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমকে ধীরগতি করা হচ্ছে। অপরাধীরা এখনো আইনের বাইরে রয়েছে। এতে করে নিহতদের পরিবার, তাবলিগের সাধারণ সাথী এবং পুরো মুসলিম সমাজ ক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয় :
১. সাদপন্থীদের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও সুষ্ঠু বিচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
২. হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
৩. সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত সাদপন্থীদের ২ জন পুলিশ অফিসারকে প্রত্যাহার বা বদলি করতে হবে।
৪. হামলায় জড়িত সকল প্রভাবশালী মহলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৫. সারাদেশের তাবলিগ মসজিদগুলোকে হামলা মুক্ত রাখার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ি নেজামের) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ইসলামের দাওয়াতি মেহনতকে কলুষিত করার ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। এজন্য সকল আলেম, উলামা, ইমাম ও মুসল্লিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও জানান, আগামী বিশ্ব ইজতেমা-২০২৬ কে সামনে রেখে তুরাগ ময়দানের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বক্তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি দেরিতে হলেও বিচার হবে। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে এদেশের মানুষ আইনের প্রতি আস্থা হারাবে।
Leave a Reply