রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

শ্বাশুড়ির দেয়া জমি, স্বর্ণালংকার ও ২০ লক্ষ টাকা আর্তসাৎপ্রবাসী স্বামীর নির্দেশে স্ত্রী-সন্তানরে উপর শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের অত্যাচার

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৯০ বার

জামাইয়ের নামে লিখে দেয়া শ্বাশুড়ির জমি, স্বর্ণালংকার এবং দুই মামা শ্বশুড়ের কাছ থেকে নেয়া বিপুল পরিমান টাকা আর্তসাৎ করার লক্ষ্যে তিন লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে পরিবারের বাবা মা বোনের মাধ্যমে স্ত্রীসহ দুই অবুঝ সন্তানকে অত্যাচার করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর দেশে ফিরে স্ত্রীর অনুমতিহীন দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক স্বামী মো: রাসেল হোসেনের নামে।
এঘটনায় স্ত্রী মোছা: কহিনূর আক্তার বাদী হয়ে গাজীপুরের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ৪ নং আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা মোতাবেক সিআর মোকদ্দমা নং ৪৩৬/২০২৫ দায়ের শেষে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করিয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না ভূক্তভোগী। স্কুল পড়ুয়া অবুঝ দুই সন্তান মিরাজুল ইসলাম আবির [১১] চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র এবং সোয়াদ ইসলাম আদিব [৬] প্রথম শ্রেণীর ছাত্রকে নিয়ে টঙ্গীর টিএন্ডটি এলাকায় অসহায় বিধবা বৃদ্ধ মায়ের আশ্রয়ে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানান কহিনূর আক্তার।
ভূক্তভোগী কহিনূর আক্তার জানান,২০১৪ সালের ১০ আগষ্ট পারিবারিক ভাবে ইসলামিক শরিয়া মোতাবেক ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহরানা ধার্য্য করে বিয়ে হয় যশোর জেলার চৌগাছা থানার আন্দুলিয়া ’সুখপুকুরিয়া’ গ্রামের আম্বিয়া রহমানের ছেলে মো. রাসেল হোসেনের সাথে। বিয়ের সময় কহিনূরের মা রুনো বেগম মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ৩ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও আন্দুলিয়া গ্রামে ৮শতাংশ এবং গাজীপুরের দ্বিরাশ্রম এলাকায় পৌনে তিন শতাংশ জমি লিখে দেন জামাই রাসেলের নামে। বিয়ের কিছুদিন পর তাদের সংসারের প্রথম সন্তান মিরাজুল ইসলাম আবির এবং দ্বিতীয় সন্তান সোয়াদ ইসলাম আদিবের জন্ম হয়। এরপর মো. রাসেল হোসেন গত প্রায় ৪ বছর পূর্বে সৌদি আরবে চলে যান। সৌদি আরব গিয়ে সেখানে কর্মরত রাসেল হোসেন তার মামা শ্বশুড় আবুল হোসেনের কাছ থেকে ইটালী যাওয়ার কথা বলে ১০ লাখ এবং মামা শ্বশুড় মাঈন উদ্দিনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এদিকে স্বামী সৌদি যাবার পর থেকে শুরু হয় সংসারের অশান্তি। রাসেল হোসেন তার শ্বাশুড়ির নিকট বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুক দাবী করেন। দাবীকৃত যৌতুকের ৩লাখ টাকা দিতে না পারায় গত ২০জুন ২০২৫ইং শুক্রবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানদের উপর অত্যাচার নির্যাতন করেন শ্বশুড় আম্বিয়া রহমান বদু, শ্বাশুড়ি সবেদা বেগম, ননাস চামেলী, চামেলীর স্বামী আসাদুজ্জামান জেমস এবং তাদের মারধর করেন। গত ২৫ জুলাই ২০২৫ইং শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে মোবাইল ফোনে আবারো যৌতুকের দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় রাসেল হোসেন কহিনূরকে নিয়ে সংসার করবে না বলে জানায়। এ ঘটনার পর ২৬ জুলাই শনিবার স্ত্রী সন্তানকে কৌশলে গ্রামের বাড়ি থেকে রাসেল হোসেনের চাচা সাগর হোসেন [৪৫] টঙ্গীতে এনে তাদের রেখে পালিয়ে যায়। তারপর থেকে রাসেল হোসেনসহ তার পরিবারের লোকজন কোহিনূর আক্তার ও তার সন্তানদের কোন প্রকার খোজ খবর না নিয়ে উল্টো বিভিন্ন প্রকার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। ইতিমধ্যে রাসেল হোসেন গোপনে বাংলাদেশে এসে প্রথম স্ত্রীর অনুমতিহীন দ্বিতীয় বিবাহ করার গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ’বিজ্ঞ আদালতে দায়ের করা ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা, সিআর মোকদ্দমা নং ৪৩৬/২০২৫ এর অভিযোগপত্রে’ উল্লেখ করেছে মামলার বাদীনি মোছা: কহিনূর আক্তার।
এ ব্যাপারে কহনিূরের স্বামী মো: রাসেল হোসেনের সৌদি আরবের নম্বরে করা হোয়াটসআপে যোগাযোগ করা হলে তিনি কহিনূর আক্তারকে চেনে না এবং তিনি এখনো সৌদিতে আছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে কহিনূরের শ্বশুড় মো. আম্বিয়া রহমান বদুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ছেলে মো. ওাসেল হোসেন কোথায় আছে তিনি জানেন না। পুত্রবধু বর্তমানে তার পিত্রালয়ে আছেন বলে তিনি দাবী করেন।
যশোর জেলার চৌগাছা থানার ১১ নং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভূক্তভোগী মেয়ে পক্ষ পরিষদে অভিযোগ করলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories