ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ’র রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে হাজারও শিক্ষার্থী।
আন্দোলন চলাকালে দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য) অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে আসেন। তখন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তারা। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করার মৌখিক আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ, তবে শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে জানানোর দাবি জানান। পরে প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ স্থান ত্যাগ করলে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সেখানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এর চেয়েও বেশি দ্রুত করা গেলে আমরা সেটারও চেষ্টা করবো। সাজিদ আমাদের বিভাগের ছাত্র। সাজিদ আমারও সন্তান। আমি বেঁচে থাকতে সুষ্ঠু তদন্ত হবেই হবে। এদিকে আজকের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে বলে জানান কোষাধ্যক্ষ।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভের উদ্দেশ্যে জড়ো হতে শুরু করে। সেখানে দলে দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের দু’ পাশই আটকে দেন। এতে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুকুরে লাশ ভাসতে দেখার পরপরই প্রশাসনকে জানানো হয়। পৌনে এক ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর আধা ঘণ্টা পার হলেও সেখানে কোনো ডাক্তার বা অ্যাম্বুলেন্স আসেনি। লাশ শনাক্তের দুই ঘণ্টা পরেও প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা কিংবা হল প্রভোস্টের দেখা মেলেনি। এছাড়া ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কোনো সিসি ক্যামেরা সচল নেই। বারবার দাবি জানানো হলেও প্রশাসন বাজেট ঘাটতির কথা বলে সিসি ক্যামেরা বসায়নি। এসময় শিক্ষার্থীরা সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তকরণ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে রিপোর্ট প্রকাশ, পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনা, হলে শিক্ষার্থীদের এন্ট্রি ও এক্সিট মনিটরিংয়ের আওতায় আনা, ক্যাম্পাসের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টিত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও চালু রাখা এবং বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ-সহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রশাসন ভবন থেকে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে যান। সেখানে সাজিদ আবদুল্লাহ’র গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সাজিদের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করে শাখা ছাত্রদল। তারাও কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। এদিকে গতকাল শুক্রবার রাতে একই দাবিতে টর্চলাইট মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির। তাছাড়াও রাতেই ইবির ছাত্রী হলগুলোতে অবস্থানকারী ছাত্রীরা হলের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করেছেন।
স্কলারশিপ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, মিলবে ৭ লাখ টাকা
উল্লেখ্য, ১৭ জুলাই বিকেলে শাহ আজিজুর রহমান হল পুকুর থেকে আল কুরআন বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি শহিদ জিয়াউর রহমান হলের ১০৯ নম্বর কক্ষে থাকতেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বিবৃতি দিয়ে এই রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছেন। পরে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শহিদ জিয়াউর রহমান হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলীর ভাষ্য, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কীভাবে দ্রুত করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।আমরা শিক্ষার্থীদের পাশেই আছি এবং তাদের স্বার্থেই কাজ করছি।
Leave a Reply