জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হামলার ঘটনা তদন্ত করে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি ১০২ জনকে শাস্তির জন্য সুপারিশ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এম এম মাসুদ রানা মিঠুসহ ১০২ জনের নামে সুপারিশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জুলাই আন্দোলন দমনে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে আন্দোলনরত অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। পাশাপাশি হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে হলগুলোয় ব্যাপক অস্ত্র মজুত করে। ৫ আগস্টের পর সেসব অস্ত্র আবাসিক হল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের অপরাধের ধরন বিবেচনা করে দুই ক্যাটাগরিতে তালিকা করা হয়েছে। তন্মধ্যে একটি তালিকায় নাম রয়েছে ৮৫ জন শিক্ষার্থীর এবং আরেকটি তালিকায় নাম রয়েছে ১৭ জনের।
সুপারিশে আরও বলা হয়, কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে অপরাধের ধরন বিবেচনায় সনদপত্র বাতিল, সনদপত্র স্থগিত, আজীবন বহিষ্কার, ২ বা ৩ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা করতে পারবে। ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের তালিকা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৫৯তম সভায় উত্থাপন করা হয়। পরে বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চিঠি দেয়ার পর সেই চিঠির জবাব এলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে কার কার বিরুদ্ধে মামলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই মামলা করা হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হাসান জানান, ‘আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশমালার আলোকে গত রিজেন্ট বোর্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে চিঠি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply