সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫
  • ৪২ বার

গাজীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে কারখানায় এক শ্রমিককে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ার পর কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন কাশিমপুর রোডের একটি পোশাক কারখানায় গত শুক্রবার (২৭ জুন) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে শনিবার (২৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করায় ঘটনাটি দেরিতে প্রকাশ পায়। নিহত ইলেকট্রিশিয়ানের নাম হৃদয় (১৯)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার শুকতারবাইদ এলাকার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। হৃদয় গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন হারিনাবাড়ী এসরারনগর হাউজিং এলাকায় মিরাজের বাড়িতে মা ও বোনসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি স্থানীয় গ্রিনল্যান্ড ফ্যাক্টরিতে ডাইং সেকশনের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে অস্থায়ীভাবে কাজ করতেন।
এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হলেও জড়িত কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। ওই মামলায় রোববার রাতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হাসান মাহমুদ মিঠুন (২৮)। তিনি গ্রিনল্যান্ড ফ্যাক্টরির কর্মচারী বলে জানা গেছে। মিঠুন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার হাদিরা বাজার এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং কোনাবাড়ীর কুদ্দুসনগর এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
হৃদয়কে মারধরের ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, তাকে কারখানার একটি কক্ষের জানালার সঙ্গে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে খালি গায়ে একটি সোফার ওপর বসিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে হৃদয়ের মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। তার জিনসের প্যান্টেও রক্তের দাগ লেগে ছিল। এ সময় আশপাশের কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, এত করে পিটানো হইছে, (তারপরও) কিছুই হয় নাই, মরে নাই।
ভিডিওর আরেকটি অংশে দেখা যায়, হৃদয়কে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করছেন কয়েকজন। তাদের মধ্যে একজনের হাতে কাঠের লাঠি ছিল। তখনো পিঠের দিকে হাত মুড়িয়ে মাঝে লাঠি জুড়ে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন হৃদয়। রশির একটি অংশ দিয়ে তার দুই পা–ও বাঁধা ছিল। ওই অবস্থায় কয়েকজন তাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হৃদয় ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছিলেন না।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর আশপাশের অন্য গার্মেন্টসে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় ৪০০-৫০০ শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন এবং গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টস কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হৃদয় হত্যার বিচার দাবি করেন। এ সময়ে তারা কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, ‎হত্যাকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ গার্মেন্টসের মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে।
হৃদয়কে পিটিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করার দাবি করেছেন কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন। তিনি গণমাধ্যম বলেন, এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories