বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার (২৯ জুন) দিন ধার্য রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ বিষয়ে রায় দেয়া হবে।
সাধারণত রোববার বিচারকাজে বসেন না প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তবে এ মামলার রায় দেয়ার জন্য রোববার বিচারকাজে বসবেন তিনি।
১৯৯৯ সলের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেনের মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি সেই গেজেট গ্রহণ করে আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।
এ বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সালে এমন একটি কাজ করা হয়েছে, যেখানে নিম্ন আদালতের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে কার্টেল করে দেয়া হয়েছে। একটি শৃঙ্খলাবিধি করা হয়েছে, যেটি ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগ গ্রহণ করে একটি আদেশ দিয়েছিলেন। এই শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে আমাদের নিম্ন আদালতের জুডিশিয়াল অফিসারদের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে। ওই আদেশকে পুনর্বিবেচনা চেয়ে আমরা আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের শুনানি হয়েছে।
এই আইনজীবী আরও বলেন, শুনানিতে আমরা যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তখনকার দিনের বিচার বিভাগকে অ্যাসল্ট করে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে পাঠিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এই শৃঙ্খলাবিধিকে গ্রহণ করা হয়েছিল তার কথা বলেছি। যেখানে আগে ৯ জন বিচারপতি ভিন্ন আদেশ দিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করে ৫ জন বিচারপতির মাধ্যমে সেই শৃঙ্খলাবিধি গ্রহণ করা হয়েছিল। অথচ, সেটি ছিল অধস্তন বিচারকদের জন্য সবচেয়ে বেশি অন্যায় ও অমর্যাদাকর এবং স্বাধীনতার পথে বড় বাধা।
তিনি বলেন, শুনানিতে আমরা এটিকে বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছি। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার এ আদেশ দিতে বাধ্য করেছিল। এটি অনিবার্যভাবে দ্রুত রিভিউ করা প্রয়োজন। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আমাদের বক্তব্য আদালত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যও শুনেছেন। আমাদের আরও কিছু গ্রাউন্ড (যুক্তি) দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার বিশেষ বেঞ্চ আকারে আসবে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাপারে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার ‘ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ে এ বিষয়ে ঘটনা লিখেছেন। একদিন দেখা গেল তিনি আদালতে ওঠেননি। বলা হয়েছিল, তিনি অসুস্থ, বাড়িতে আছেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আদালতকে প্রশ্ন করেছিলেন প্রধান বিচারপতি কোথায়, তখন সরকারের পক্ষে বলা হয়েছিল তিনি অসুস্থ। অথচ, খবর নিয়ে জানা গেল তিনি অসুস্থ নন। তিনি নিজেও বলেছিলেন, তিনি অসুস্থ নন। তারপরেও তাকে এজলাসে আসতে দেয়া হয়নি। তিনি বিদেশে গিয়েছেন। বিদেশ থেকে আর ফেরত আসতে পারেননি। সেখান থেকে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তার বিদায়ের পর বিধিটি গ্রহণ করা হয়েছে। একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বানিয়ে তাদের বাধ্য করে এই আদেশকে গ্রহণ করা হয়েছে।
Leave a Reply