রাজধানীর সবুজবাগে ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে ৬ খণ্ড করে হত্যার ঘটনায় ৩ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া আজহার আলী নামের একজন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ জুন) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালত এ রিমান্ডের আদেশ ও জবানবন্দী গ্রহণ করেন। এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তিনজনের সাত দিনের রিমান্ড ও আরেকজন দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করে পুলিশ।
শুনানি শেষে আদালত তিনজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরসহ আরেকজনের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ বাইগদিয়া এলাকার ঝোপের ভেতর থেকে বালু খুঁড়ে জাকিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, প্লাস্টিক ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সপরিবারে সবুজবাগ থানার বাইগদিয়া এলাকায় থাকতেন। গত ৪ জুন জাকির হোসেন নিখোঁজ হন। এরপর স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন জাকির নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার স্ত্রী রেখা বেগম সবুজবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর মধ্যে জাকিরের খোঁজ না পাওয়ায় তিনি ১০ জুন আজহার আলীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সবুজবাগ থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, জাকির হোসেন বাড়ির পাশে আজহারসহ চার-পাঁচজনের সঙ্গে বিভিন্ন সময় আড্ডা দিতেন। ৪ জুন সকালে জাকির বাসা থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দিলেও আর ফিরে আসেননি। রাত পৌনে ১২টার দিকে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে জাকির বলেন, তিনি আজহারের বাসায় আছেন। তখন তার সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা ছিল। পরে অনেক রাতে আবার আজহারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। জাকিরকে অপহরণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে আজহার জড়িত থাকতে পারে।
এদিকে মরদেহ উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারের পর সবুজবাগ থানা পুলিশ জানায়, জাকিরের মাথায় প্রথমে রড দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর মৃতদেহের দুই হাত, দুই পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। শেষে মৃতদেহের ছয়টি খণ্ড বাইকদিয়া এলাকার একটি জঙ্গলে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
Leave a Reply