বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টঙ্গীর পূর্ব থানা কমিটির সদস্য সচিব আকাশ খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ও অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের জেরার মুখে পড়া ওই নেতা ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কথাবার্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে)। এর আগে গত বুধবার রাতে টঙ্গীতে একটি কারখানায় বিশৃঙ্খলা ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইসাক নামে আরেক নেতাকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী।
অভিযুক্ত আকাশ খান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টঙ্গীর পূর্ব থানা কমিটির সদস্য সচিব। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ওই নেতা হলেন মোহাম্মদ ইশাক (২৬)। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টঙ্গী পশ্চিম থানার আহ্বায়ক। আকাশ খানের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, টঙ্গী পূর্ব থানা চত্বরে কয়েকজন ব্যক্তি মিলে আকাশ খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পাশে একজন দাঁড়িয়ে এ ঘটনার ভিডিও করছেন। স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলছেন, রাতে আকাশ খানসহ কয়েকজন বাসায় গিয়ে তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা করে। একপর্যায়ে বলা হয়, আপনাদের নামে চারটা মামলা হয়েছে। চারটা মামলার জন্য ৫ লাখ করে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।এ সময় আকাশ খান ক্যামেরার সামনে নিরুত্তর ছিলেন। ভিডিওতে সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যায় এক যুবককে, যিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তাঁর বাড়িতে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার অজুহাতে আকাশ খান প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। ওই যুবক বলেন, আকাশরা বাড়িতে ঢুকেই আমাদের জানান, আমার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। এরপর তাঁরা (আকাশ খান ও তাঁর লোকজন) থানা-পুলিশের ভয় দেখান।
ওই যুবক আরও বলেন, আমরা সমাধানের পথ খুঁজতে চাইলে তাঁরা ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা ২০ হাজার টাকা এবং বাড়িতে থাকা ভাড়াটেদের কাছ থেকে আরও ৬ হাজার টাকা তুলে দিলে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান। পরদিন বেলা ১১টার মধ্যে ৫ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলে যায়।
এ বিষয়ে আকাশ খানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নজরে আনা হলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর শাখার মুখপাত্র বশির আহমেদ বলেন, টঙ্গী অঞ্চলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে বেশ কিছুদিন ধরেই চাঁদাবাজির এমন ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply